• সমগ্র বাংলা

টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব || ট্রাফে ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীণ রাস্তা ধ্বংস

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল সদর 'সহ বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে বালু ও মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এ কাজে ব্যবহৃত ট্রাফে ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ছে। ঘাটাইল উপজেলায় পাহাড় ও টিলার লাল মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভুঞাপুর ও কালিহাতি উপজেলায় একই অবস্থা। বাসাইল উপজেলার ভৈরপাড়া সতীশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার ঝিনাই নদীর তীর থেকে বালু ও মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অবৈধভাবে বালু ও মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এর ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নব নির্মিত গ্রামীণ পাঁকা ও কাঁচা রাস্তা ধ্বংসের মুখে পরেছে।

এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাসাইল ভৈরপাড়ায় বেশির ভাগ গরীব ও খেটে-খাওয়া মানুষের বসবাস। এখানে আমরা নদী তীরবর্তী তিন ফসলি জমিতে বোরো, সরিষা ও চৈতালী ফসল চাষ করি। পার্শ্ববর্তী গ্রাম আদাজানে বেশির ভাগ লোক নদীর ওপারে বসবাস করেন। এপারে তাদের কিছু জমি রয়েছে। আদাজানের জমিওয়ালাদের নদী পার করে শষ্যাদি নিতে কষ্ট হয় তাই তারা প্রতি বছর জমির মাটি বিক্রি করে দেন। এসময় মাটি ব্যবসায়ীরা আমাদের সরিষা ও বোরো ধানিজমির উপর দিয়ে মাটির গাড়ী চালিয়ে ফসল নষ্ট করে। আমরা সাধারণ মানুষ। কিছু কইতে পারি না।

আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসন কে জানাতে গেলে তাদের লোকজন এসে আমাদেরকে হুমকি দেয়। তারা প্রভাবশালী। বাধ্য হযে ফসলের ক্ষতি পূরণবাবদ যা টাকা দেয় তাই নিয়ে চুপচাপ থাকি। মাঝে মাঝে পুলিশ আসে। আমরা তাদের মৌখিক ভাবে জানিয়েছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। গত কয়েক মাস ধরে সারা রাত টানা ভেকু চলছে । এছাড়া মাটির গাড়ী চলাচল করে। আমরা দিনশেষে শান্তিমত ঘুমাতেও পারি না। আমাদের জমির ফসল আর বাড়ীঘর ধুলোয় অন্ধকার। আমাদের পরিবারের ছোট শিশু আর বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টে ভূগছে। তারা আরো জানান, আমাদের অভিযোগ প্রশাসন পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে না।

তবে প্রশাসনের সঙ্গে আতাঁত করেই নাকি নদী থেকে বালু ও মাটি কেটে বিক্রি করছেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ৪০০ শতাংশ জমিতে কয়েকটি ভেকু বসিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। নদীর তীর প্রায় ৩০ ফুট গর্ত করে তলদেশ থেকে বালু কেটে নিচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ীরা। মাটি পরিবহনের জন্য ৩০-৩৫ টি মাঝারি ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলছে ফসলি জমি নষ্ট করে।

গাড়ি দিয়ে এসব মাটি পরিবহনের ফলে ব্যহৃত হচ্ছে বোরো চাষাবাদ। নষ্ট হচ্ছে সরিষা আর ভুট্টা জাতীয় ফসল। ধুলোর আস্তরণ পড়েছে ফসলের উপর। বালুকাটা চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা কোন প্রকার প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, আমরা প্রশাসন ও পুলিশ ম্যানেজ করেই ব্যবসা পরিচালনা করছি। পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে কথা না বলে এসব ব্যবসা চলে না।

এখানে গাড়ি চলাচলের জন্য জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ উচিতের চাইতে অনেক বেশি টাকা দিয়েছি। এ জমির মাটি কাটা কোন সমস্যা না। এ বছর কাটতেছি আগামী বছর দেখবেন ভরে গেছে। জমির মালিকদের শুধু লাভ আর লাভ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বালু ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের কোন আঁতাত নেই। তবে কে বা কারা নদীর পাড় কেটে বালু বিক্রি করছে খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

মন্তব্য (০)





image

রংপুরে কোরবানির জন্য ৬৬ স্থান নির্ধারণ, ৮ ঘণ্টায় বর্জ্য অ...

রংপুর ব্যুরোঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর মহান...

image

ফরিদপুর কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বৃদ্ধ কয়েদির মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলা কারাগারের ছয়টি মামলায় সাজাপ্...

image

ফরিদপুরে কোরবানির গোস্ত সংরক্ষণ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা...

image

দিনাজপুরের বড় ময়দানে লাখো মুসল্লীর অংশ গ্রহনে ঈদুল আজহার ...

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ আনন্দ উদ্দিপনা এবং শান্তিপূর্ণ পরিব...

image

দিনাজপুরে ট্রাকের সাথে ধাক্কায় সিএনজি আরোহি দুই শিশু নিহত...

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ট্রাকের সাথে ধ...

  • company_logo