• অপরাধ ও দুর্নীতি

বগুড়ায় এনআরবিসি ব্যাংকের উপশাখায় চুরি: লুণ্ঠিত দেড় লাখের বেশি টাকা উদ্ধারসহ আটক ২

  • অপরাধ ও দুর্নীতি
  • ১৩ জুলাই, ২০২৪ ২০:১২:২৫

ছবিঃ সিএনআই

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় এন.আর.বি.সি ব্যাংক এর উপশাখার সিন্দুক ভেঙ্গে নয় লক্ষাধিক টাকা চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা( ডিবি)। এসময় লুন্ঠিত টাকার মাঝে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযান চলমান রয়েছে সঙ্গবদ্ধ এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারেও। সম্প্রতি বগুড়ার দুটি পৃথক ব্যাংকে চুরির ঘটনা একই চক্রেরই মাস্টার প্ল্যান এমনটাই উঠে এসেছে তদন্তে। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-  বগুড়া সদর উপজেলার হুকমাপুর এলাকার জাহিদুল ইসলাম এবং গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া এলাকার রিয়াজ উদ্দিন ওরফে শেখ মিঠু ওরফে মিঠু। এর মধ্যে জাহিদুলের নামে দুইটি চুরি এবং রিয়াজ উদ্দিনের নামে চুরি, ডাকাতি ও মারামারি সংক্রান্ত ৬টি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার জাহিদুল বগুড়া মাটিডালী এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা চুরির মামলায় অন্যতম আসামি ছিলেন। 

শনিবার বিকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম। 

এর আগে, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি রা‌তে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া পল্লীমঙ্গল এনআরবিসি ব্যাংকের উপ-শাখার সিন্দুক ভেঙে ৯ লাখ ৭৮ হাজার চুরি ক‌রে‌ পা‌লিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে ভো‌রের দি‌কে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। এ ঘটনার পরেরদিন ব্যাংক‌টির শাখা ব্যবস্থাপক রা‌শেদুল ইসলাম সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা‌ দায়ের করেছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, গত ১২ জুন দিবাগত রাতে বগুড়া মাটিডালীতে আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা চুরির মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে জাহিদুল ছিলেন। পরে আইএফআইসি ব্যাংকে চুরির ঘটনায় জাহিদুলকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে শুক্রবার  (১২ জুলাই) দিবাগত রাতে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানাধীন দহিচাড়া এলাকা থেকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে এনআরবিসি ব্যাংকের লুন্ঠিত ৫৭ হাজার ২৫০ টাকা এবং রিয়াজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে এক লাখ এক হাজার একশো টাকা উদ্ধার করা হয়। তারা পল্লীমঙ্গল এনআরবিসি ব্যাংকের ভল্ট ভাঙ্গার সময় সেলাই রেঞ্জ ,স্ক্রু ড্রাইভার ও লোহার তৈরী টায়ার লিভার ব্যবহার করে এবং টাকা চুরি শেষে উক্ত আলামত গুলো বগুড়া জেলার সদর থানাধীন পল্লীমঙ্গল এলাকায় ইট ভাটার পুকুরের ধারে ফেলে চলে যায় বলে স্বীকার করে। পরবর্তীতে তাদের দেখানো মতে উল্লেখিত স্থান থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়। পল্লী মঙ্গল এনআরবিসি ব্যাংক হতে নয় লাখ আটাত্তর হাজার ছয়শত চৌদ্দ টাকা চুরি তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

শরাফত ইসলাম আরো বলেন, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামী গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান চলমান আছে। তিনি আরো বলেন, আইএফআইসি ব্যাংকের মাটিডালি বিমান মোড় উপ শাখায় চুরির ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের পর এনআরবিসি ব্যাংকের ঘটনাও একই সূত্রে গাঁথা কিনা বা একই চক্রের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে কিনা সেটি নিয়ে কাজ শুরু করেছিল জেলা পুলিশ যা মিডিয়াতেও দুই ঘটনা এক চক্রের হতে পারে মর্মে একাধিক প্রতিবেদন হয়েছিলো।

এদিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার এ প্রসঙ্গে বলেন, পরপর দুটি ব্যাংকের উপ শাখায় চুরির ঘটনা ঘটলে বগুড়ায় জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, উঠে আসে ব্যাংকের উপ শাখা কিংবা এজেন্ট আউটলেটগুলোতে দুর্বল নিরাপত্তার চিত্র। কোনোটাতে ছিল না নিরাপত্তারক্ষী আবার কোন শাখাতে ন্যূনতম সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যন্ত ছিলো না। জেলা পুলিশের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সভা করে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে তাগিদ দেয়াসহ বিচলিত না হয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে অবশেষে এনআরবিসি এবং আইএফআইসি দুটি ব্যাংকের চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ পরিবার। জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে তারা বদ্ধপরিকর। অপরাধ করে আজ পর্যন্ত কেউ পার পায়নি, দিনশেষে তাকে আইনের আওতায় অবশ্যই আনা হয়েছে। তিনি সাধারণ জনগণকে যেমন সচেতনতার সাথে নির্বিঘ্নে নিজেদের জীবন যাপনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষদের জনগণের আমানত রক্ষার্থে আরো ইতিবাচক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়নের অনুরোধ জানান। 

মন্তব্য ( ০)





  • company_logo