• আন্তর্জাতিক

মাহাথিরের ৭০ বছরের সঙ্গীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : শত বছরের জীবন থামল। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যের অবসানে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদকে একা করে চিরবিদায় নিলেন তার জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে মালয়েশিয়ার জনজীবনের অন্যতম পরিচিত এই নারীকে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মসজিদ থেকে পুত্রজায়ার পুসারা নেগারা পর্যন্ত জড়ো হন রাজপরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, রাজনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ।

দুপুরে তামান সুংগাই বেসির মসজিদ আস-শরিফে নেওয়া হয় তার মরদেহ। বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকেই সেখানে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিশিষ্টজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা ৩টার আগে মরদেহ পৌঁছানোর পর মানুষের ঢল নামে। মসজিদের মূল নামাজের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেলে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে বারান্দা ও প্রবেশপথ পর্যন্ত। বিপুল জনসমাগমে আশপাশের সড়কেও সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ট্রাফিক পুলিশ।

মরদেহ বহনকারী শবযানের সঙ্গে পৃথক গাড়িতে মসজিদে পৌঁছান মাহাথির মোহাম্মদ। সাত দশকেরও বেশি সময়ের জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতে এ সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

মসজিদ আস-শরিফেই সম্পন্ন হয় সিতি হাসমাহর গোসল, কাফন ও জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা। বিপুল মুসল্লির উপস্থিতির কারণে আসরের নামাজ দুই দফায় আদায় করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা।

বিকাল ৪টার দিকে জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- মেলাকার ইয়াং দি-পেরতুয়া নেগেরি তুন মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ রুস্তাম, উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জুলকেফলি আহমাদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সাবেক শীর্ষ নেতারা।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, বেরসাতুর মহাসচিব দাতুক সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলী, মুয়ারের সংসদ সদস্য সিয়েদ সাদ্দিক সিয়েদ আবদুল রহমান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভির প্রধান অ্যাডমিরাল তান সেরি জুলহেলমি ইথনাইন, দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা আজিজান এবং দাতিন সেরি রোসমাহ মানসুরসহ বিশিষ্টজনরা।

জানাজা শেষে জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’ দিয়ে মোড়ানো সিতি হাসমাহর কফিন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যরা বহন করে নিয়ে যান। পরে আনুষ্ঠানিক শবযানে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুত্রজায়ার প্রিসিঙ্কট-২০ এলাকায় অবস্থিত পুসারা নেগারায়।

পুসারা নেগারায় একে একে উপস্থিত হন রাজপরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান পাহাংয়ের তেংকু আম্পুয়ান তুনকু আজিজাহ আমিনাহ মাইমুনাহ ইস্কান্দারিয়াহ। তার সঙ্গে ছিলেন পাহাংয়ের তেংকু মাহকোটা তেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহ এবং তেংকু পুতেরি রাজা তেংকু আফজান আমিনাহ হাফিজাতুল্লাহ প্রমুখ।

এছাড়া সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান- পেনাংয়ের গভর্নর তুন রামলি নঘা তালিব, কেদাহর রাজা মুদা তেংকু সারাফুদ্দিন বদলিশাহ সুলতান সালেহউদ্দিন এবং নারী, পরিবার ও সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি। সেখানে আগে উপস্থিত হন ফেডারেল টেরিটরিজবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী হান্নাহ ইয়োহ ও কুয়ালালামপুরের মেয়র দাতুক ফাদলুন মাক উজুদ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেন, দেশের জনসেবায় সিতি হাসমাহর অগ্রণী ভূমিকা ও দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ইতিহাসে অগ্রগামী নারী চিকিৎসকদের অন্যতম। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে নারী, পরিবার ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত সন্তান মারিনা, মিরজান, মেলিন্ডা, মোখজানি, মুখরিজ, মাইজুরা ও মাজহার।

মালয়েশিয়ার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে মাহাথিরের পাশে থাকা সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাজপরিবারের অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পুসারা নেগারায় প্রয়াত দাতিন সেরি এন্ডন মাহমুদের কবরের পাশে সিতি হাসমাহকে সমাহিত করা হয়। 

মন্তব্য (০)





image

ভোটচোর বলেই ভোটারকে ভয় নেই, প্রবেশের চড়কাণ্ডে রাহুলের তোপ

১

নিউজ ডেস্ক : রাস্তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এক যুবক। সেই প্রশ্নের জবা...

image

‎রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি ...

২

‎আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমত...

image

এআই ‘১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু’ ঘটাতে পারে: বিল গেটস

৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবী বিল...

image

‎শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, কূটনীতিতেই সমাধা...

৪

নিউজ ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে ...

image

ভারতে রাস্তায় নেমে এলো শতশত শিক্ষার্থী, যুদ্ধবিমান-ট্যাংক...

৫

নিউজ ডেস্ক : পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পা...

  • company_logo