• সমগ্র বাংলা

শ্রীপুরে পাকা কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট তৈরি করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল মৌসুমে সহজলভ্য হলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করণের অভাবে প্রতিবছরই কাঁঠালের রাজধানী গাজীপুরে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কাঠাল। এবার সেই কাঁঠাল দিয়েই বিস্কুট তৈরি করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূইয়া । নিজস্ব কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে  উৎপাদন করছেন পাকা কাঁঠালের বিস্কুট। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় ভাবে অফলাইন  ও অনলাইন ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উৎপাদনের শুরু থেকেই কাঁঠালের বিস্কুটের চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে কাঁঠাল দিয়ে আরও নানা খাদ্যপণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন আব্দুস সাত্তার ভূইয়া।  চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। বাজারে আসার পর থেকেই পণ্যটি অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমে ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।

পাকা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিস্কুটের ক্রেতা সেলিম জানান, আমরা বড় ভাইদের সাথে ঐ কারখানায় গিয়ে বিস্কুট ক্রয় করেছি। বিস্কুটের স্বাদ ও গন্ধ অসাধারণ। 

আরেক ক্রেতা মাসুদ বলেন, জীবনের প্রথম পাকা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি  বিস্কুট খেয়েছি সত্যি বলতে এর স্বাদটা অসাধারণ। পাকা কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট তৈরি মনে হয় শ্রীপুরেই প্রথম দেখলাম। 

আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন,গত বছর চীন সফরে গিয়ে দেখেছি, কাঁঠাল দিয়ে নানা ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়ে ভাবতে শুরু করি। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া। 

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় একে ভিন্নতা এনে দিয়েছে।বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন,কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য (০)





  • company_logo