• সমগ্র বাংলা

ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরো: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মাসিক ভাতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ছয় দফা দাবিতে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার (৮ জুন) সকালে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং চিকিৎসা সেবায় কিছুটা চাপ দেখা দেয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, তারা প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকলেও বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল। এতে অনেক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

কর্মসূচির কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন এবং হাসপাতাল চত্বরে ভিড় বাড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মরত চিকিৎসকরা অতিরিক্ত চাপ নিয়ে সেবা প্রদান করছেন।

এ বিষয়ে রোগীদের স্বজনরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক, যাতে সাধারণ রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি, রংপুর মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ডা. সাদমান মির মিরাজ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম শাহরিয়ার এবং কোষাধ্যক্ষ আবু বক্করসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা ইন্টার্নদের জন্য মাসিক ৩০ হাজার টাকা এবং এফপিসিএস ট্রেইনিদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে “চিকিৎসক সুরক্ষা আইন” প্রণয়নের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসকরা প্রায়ই হামলা, হেনস্তা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে চিকিৎসা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. সাদমান মির মিরাজ বলেন, “আমরা ২৪ ঘণ্টা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমান ভাতা আমাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে অপ্রতুল। বর্তমান সরকারের ফার্স্ট লেডি একজন চিকিৎসক হওয়ায় আমরা আশা করি, চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকাস্থ মেডিকেল কলেজগুলোর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে না পড়েন। তবে সীমিত সেবা চালু থাকলেও রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

তারা আরও সতর্ক করে বলেন, ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে মঙ্গলবার থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজের ৫১ থেকে ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচিতে যাবে। এতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, ইন্টার্নদের পক্ষ থেকে একটি স্বারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। আশা করছি দ্রুতই একটি সমাধান হবে, যাতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ফিরে আসে।”

অন্যদিকে, কর্মবিরতির প্রভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিছু সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। তারা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে হাসপাতাল প্রশাসন ও আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উভয় পক্ষই সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo