• সমগ্র বাংলা

কালীগঞ্জে খাদ্যবান্ধব চাল নিয়ে তোলপাড়: মৃত ও পলাতকদের নামে বরাদ্দ, বাজারে মিলছে সরকারি চালের বস্তা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ঘিরে উঠেছে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ। যে চাল নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে পৌঁছানোর কথা, সেই চালই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে-এমন অভিযোগে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও আলোচনা।

স্থানীয়দের দাবি, উপকারভোগীদের তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও বহু আগে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের নাম বহাল রেখে নিয়মিত চাল উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই চাল বিক্রি করা হচ্ছে বেশি দামে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে অন্তত ৭০ বস্তা চাল এভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে সরকারি মনোগ্রামযুক্ত চালের বস্তা একটি মাদ্রাসায় মজুত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল তুমলিয়া ইউনিয়নের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ৪০টির বেশি সরকারি চালের বস্তা দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। সন্দেহ হলে তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মাদ্রাসার সুপার আরিফ উল্লাহ জানান, তিনি ডিলারের প্রতিনিধি পরিচয়ে আসা রুবেল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪২ বস্তা চাল কিনেছেন। প্রতি বস্তার দাম ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও একইভাবে কয়েকবার চাল কিনেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাগরী ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিবন্ধিত ডিলার সেফালী বেগম। তবে বাস্তবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন তার জামাতা এসএম রুবেল হাসান। প্রতি মাসে তারা ৫৬৫ বস্তা চাল বিতরণের বরাদ্দ পান বলে জানা যায়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, হতদরিদ্র পরিবারগুলো বছরে ছয় মাস ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজির একটি চালের বস্তা পাওয়ার কথা। সে হিসাবে প্রতিটি বস্তার সরকারি মূল্য ৪৫০ টাকা। অথচ একই বস্তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকার বেশি দামে। এতে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ টাকা লাভের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু মৃত বা পলাতক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করেই নয়, অনেক সক্রিয় উপকারভোগীকেও চাল না দিয়ে তাদের বরাদ্দ বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসএম রুবেল হাসান। তার দাবি, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ অংশীদার হয়ে কাজ করতে চেয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এখন মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

এদিকে, বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাকিলা শারমিন। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ডিলারশিপ বাতিলের বিষয়ও বিবেচনায় আনা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, শুধু তদন্ত করলেই হবে না-প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রকৃত অসহায় মানুষের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য (০)





image

ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবনের অপরাধে দুই যুবকের ১৫ দিনের ...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন ও এলাকাবাসীর...

image

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে দিনাজপুরে ছাত্রদলরে দোয়া ও ...

দিনাজপুর প্রতিনিধি : জুলাই বিপ্লবে সকল শহীদদের আত্মার মাগফির...

image

চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র...

বেনাপোল প্রতিনিধি : চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে...

image

স্বাগতম ভিক্ষুকমুক্ত নড়াইল' সাইনবোর্ডের আড়ালে জীবনযুদ্ধের...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল জেলার প্রবেশমুখে যশোর-অভয়নগরের সীমা...

image

ঈশ্বরগঞ্জে আসামিদের হুমকীতে বাড়ি ছাড়া বাদী পরিবার

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ...

  • company_logo