• সমগ্র বাংলা

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের টিফিনে কাঁচা কলা: সরবরাহকারীর গাফিলতিতে শাস্তি পেলেন সহকারী শিক্ষক!

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নং শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির টিফিনে শিক্ষার্থীদের বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায় এড়িয়ে একজন শিক্ষককে শাস্তির আওতায় আনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সরকারি প্রকল্পের টিফিন বিতরণ করা হয়। সেখানে বনরুটির সাথে দেওয়া কলাগুলো ছিল পুরোপুরি কাঁচা ও খাওয়ার অনুপযোগী। শিক্ষার্থীরা কলাগুলো খেতে না পারায় বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে আসে এবং মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত মঙ্গলবার গোলাপী বেগমকে বরখাস্ত করা হয়।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগম জানান, ওই দিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার দিয়ে গেছে, কোনো নির্দেশনা না থাকায় তিনি সেভাবেই তা বিতরণ করেছেন।

 তিনি বলেন,"সাগরকলা অনেক সময় উপরে সবুজ থাকলেও ভেতরে পাকা থাকে। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। আমি পরিস্থিতির শিকার।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুনও শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে বলেন, "সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নিম্নমানের খাবার দেয়। তাদের দেওয়া কলা ৫ দিনেও পাকেনি। দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের, কিন্তু শাস্তি পেলেন আমার নিরপরাধ শিক্ষক।"

 ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, খাবারগুলো দুই দিন আগে স্কুলে পৌঁছানো হয় যাতে পরে পেকে যায়। কিন্তু একদিন আগেই বিতরণ করায় এই সমস্যা হয়েছে। তবে জেলা শিক্ষা অফিসারের দাবি, খাওয়ার অনুপযোগী কলা গ্রহণ করাটাই শিক্ষকের বড় ভুল ছিল।

ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাঁচা কলা দিলে শিক্ষক কী করবেন? স্কুল ফিডিংয়ের নীতিমালা নিয়ে কোনো মিটিংয়ে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায় না।

প্রকৃত দোষী ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। অবিলম্বে এই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার না করলে  আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষকরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য (০)





image

ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবনের অপরাধে দুই যুবকের ১৫ দিনের ...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন ও এলাকাবাসীর...

image

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে দিনাজপুরে ছাত্রদলরে দোয়া ও ...

দিনাজপুর প্রতিনিধি : জুলাই বিপ্লবে সকল শহীদদের আত্মার মাগফির...

image

চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র...

বেনাপোল প্রতিনিধি : চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে...

image

স্বাগতম ভিক্ষুকমুক্ত নড়াইল' সাইনবোর্ডের আড়ালে জীবনযুদ্ধের...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল জেলার প্রবেশমুখে যশোর-অভয়নগরের সীমা...

image

ঈশ্বরগঞ্জে আসামিদের হুমকীতে বাড়ি ছাড়া বাদী পরিবার

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ...

  • company_logo