জামালপুর প্রতিনিধি : জিরো হাঙ্গার প্রাইভেট সেক্টর প্লেজের আওতায় জামালপুর অঞ্চলে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা জোরদার করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ২ অর্জনে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে জামালপুরে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২ মার্চ) জামালপুর উন্নয়ন সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ডিটিআরসিতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান।
গ্লোবাল অ্যালাইন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয় পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম।
সভায় ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন গেইনের ওয়ার্কফোর্স নিউট্রিশন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার, জিএম রেজা সুমন।
গেইনের প্রজেক্ট অফিসার আহমাদ ইবনে সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আজিজুল হক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোকোনুল ইসলাম, জপলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা পিকন কুমার সাহা, জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ আব্দুল বাসেত, জামালপুর বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর, উন্নয়ন সংঘের পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল, আরসিআই এর ব্যবস্থাপক তুষার, কৃষানী আঞ্জুয়ারা বেগম প্রমুখ।
সভায় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও কারখানা ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিসহ ৪০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান বলেন গেইন পুষ্টি সচেতনতা আন্দোলনে বাংলাদেশে প্রশংসনীয় কাজ করছে। পুষ্টির দিক থেকে পিছিয়ে পড়া জামালপুরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গেইন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্লাস্টিক, পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সার, কীটনাশকের ব্যবহার না করে জৈব সারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন পুষ্টি উন্নয়ন করতে হলে পুষ্টির জন্য আবাদী জমি বিশেষ করে কৃষি জমি সংরক্ষণ, জলাশয় দখল ও ভরাট বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ধারণা পত্র সূত্র থেকে জানা যায় ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নিরসনের জন্য বেসরকারি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগ এবং তাদের কার্যক্রমকে এই লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্লেজ স্বীকার করে যে, শুধু সরকারের পক্ষে ক্ষুধা নির্মূল করা সম্ভব নয়; টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জামালপুর বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী জেলা এবং এখান থেকে ঢাকা-ভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও ন্যায্য মূল্যের দোকানে তাজা সবজি সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। জামালপুরের উৎপাদকদের সাথে ঢাকার কারখানাভিত্তিক ন্যায্য মূল্যের দোকান এর সংযোগ জোরদার করলে এটি গ্রামীণ উৎপাদক ও নগর শ্রমিক উভয়ের জন্য একটি কার্যকর ও বাজারভিত্তিক সমাধান তৈরি করবে।
গত বছরের কর্মশালার পর জামালপুরের ছয়টি প্রতিষ্ঠান মোট ৭৬৩,৩৫৯ মার্কিন ডলার অঙ্গীকারসহ প্লেজে যুক্ত হয়েছে, যা স্থানীয় আগ্রহ ও অগ্রগতির প্রমাণ। এই অগ্রগতির ভিত্তিতে বর্তমান সচেতনতামূলক সভার লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও সহযোগিতা জোরদার করা।
জামালপুরের সবজি উৎপাদকদের সাথে ঢাকার কারখানাভিত্তিক FPS-এর সংযোগের বাস্তব পদ্ধতি অন্বেষণ করবেন সরকার, বেসরকারি খাত, একাডেমিয়া ও সরবরাহ চেইন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংলাপ জোরদার করবেন।
বিদ্যমান সফল ন্যায্য মূল্যের দোকান (FPS) ও বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার মডেল সম্পর্কে জানবেন।
মন্তব্য (০)