• সমগ্র বাংলা

আমের মুকুলে সেজেছে ঈশ্বরগঞ্জ: বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: বসন্তের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে এখন এক অন্যরকম আবহ। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই আমগাছে গাছে ফুটেছে অসংখ্য মুকুল। এতটাই মুকুলে ভরে উঠেছে গাছ যে, অনেক স্থানে পাতাই চোখে পড়ে না। সোনালি রঙের মুকুল আর তার মিষ্টি ‘মৌ মৌ’ সুবাসে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। প্রকৃতিপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই যেন এই অপরূপ দৃশ্য আর ঘ্রাণে আপ্লুত।

সকাল, দুপুর কিংবা পড়ন্ত বিকেলে গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাঁটলেই চোখে পড়ে আমগাছের ডালজুড়ে ঝুলে থাকা মুকুলের সারি। বাতাসে ভেসে আসে মুকুলের মিষ্টি সুবাস। শিশু কিশোররা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করছেন আগের বছরের ফলনের কথা। বসন্তের আবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে এই সোনালি আমের মুকুল।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এমন কোনো আমগাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে মুকুল ধরেনি। অনেক গাছে মুকুলের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। কিছু চাষি ডাল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় বাঁশের কুঠি দিয়ে ডাল বেঁধে রেখেছেন। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, পুকুরপাড় ও ছোট বড় বাগান সব জায়গাতেই একই দৃশ্য।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি আমবাগান স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে ও বাড়ির আঙিনায় মিলিয়ে বর্তমানে ঈশ্বরগঞ্জে প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে। দিন দিন এ অঞ্চলে আমচাষের পরিধি বাড়ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানি চৌহান জানান, গত বছর অতিবৃষ্টির কারণে আমগাছের পাতায় কালো কার্বন জমে গিয়েছিল। ফলে পর্যাপ্ত মুকুল আসেনি এবং ফলনও কম হয়েছিল। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে পাতার তুলনায় মুকুলের আধিক্য বেশি। বিশেষ করে মাঘ থেকে ফাল্গুনের শুরু পর্যন্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঠিক ভারসাম্য মুকুল ফোটার জন্য সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মুকুল থেকে ধীরে ধীরে মটরদানার মতো কাঁচা আমের কড়ি বের হবে। এ সময় ব্যাকটেরিয়া ও হুপার পোকার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এতে আমের কড়ি ঝরে পড়তে পারে। কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, সঠিক মাত্রায় রিপকর্ড ১ মিলি এবং টিল্ড ০.০৫ মিলি শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ ও কড়ি ঝরে পড়া অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। তবে ওষুধ প্রয়োগে অবশ্যই কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এবার দেশীয় জাতের পাশাপাশি অধিক ফলনশীল ও বাজারে চাহিদাসম্পন্ন ল্যাংড়া, গোপাল ভোগ ও আম্রপালি জাতের চাষ বেড়েছে। এসব জাতের আম স্বাদ ও গুণগত মানে উন্নত হওয়ায় কৃষকেরা লাভের আশায় বেশি করে চাষ করছেন। অনেক নতুন উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে আমবাগান গড়ে তুলছেন।

স্থানীয় আমচাষি আব্দুল আজিজ ও আব্দুল গনি জানান, আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে এবং ঝড় শিলা বৃষ্টি না হয়, তবে চলতি বছর আমের ফলন গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তাঁরা।

মন্তব্য (০)





image

মেলান্দহে সমাজসেবক বুলবুলের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ফুঁ...

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনি...

image

দিনাজপুরে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের স্থান হবেনা: সৈয়দ জ...

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ ...

image

মানুষের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আমরা আপোষহীন: মা‌নিকগ‌ঞ্জ...

মা‌নিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকা ১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদ...

image

শার্শায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ...

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়...

image

নওগাঁয় হারানো শতাধিক মোবাইল হস্তান্তর

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে শতাধিক হারানো মো...

  • company_logo