নওগাঁ প্রতিনিধি: “ আমাদের দাবি, আমাদের অধিকার নতুন পে-স্কেল হবে এবার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পে-স্কেল এলন জরুরী নীতি” এই রকম বিভিন্ন শ্লোগানকে সামনে রেখে অবিলম্বে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে নওগাঁয় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলার সকল দপ্তরের সরকারি কর্মচারীবৃন্দ। এসময় বিক্ষোভকারীরা হাতে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নওগাঁতে এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নওগাঁ জেলার সকল সরকারি কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী রোববার থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কলম বিরতি করেছে জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মচারীবৃন্দ।
এদিন সকালে জেলার সকল সরকারি কর্মচারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে ঘন্টাকাল ব্যাপী মানববন্ধন করে। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম, সার্টিফিকেট সহকারী মিজানুর রহমান, ঋষিকেশ চন্দ্র মন্ডল, মামুন আক্তার, নওশাদ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, ওমর সাগর, মোহাইমিনুল ইসলাম মিঠু ও আব্দুল্লাহ আল এরশাদ প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন সরকার সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে ভাতাদি পাচ্ছে তা দিয়ে পরিবার চালানো অনেক কষ্টসাধ্য। সরকার অন্যান্য দপ্তরের বিভিন্ন দাবী মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার দেশের সকল সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে। তা না হলে দ্রুতই আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা।
নওগাঁ জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম জানান বাংলাদেশ জেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় নাগরিকদের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিস্তৃত পরিসরে সেবা প্রদান করে থাকে। ভূমি সংক্রান্ত সেবা: ভূমি রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদকরণ, খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায় এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল সংক্রান্ত কাজ। লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট: আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, সিনেমা হল ও আবাসিক হোটেলের লাইসেন্স, এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদপত্র প্রদান। রাজস্ব ও বিচারিক সেবা: রাজস্ব মামলার আপিল শুনানি, রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের জাবেদা নকল (পর্চা) সরবরাহ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। ত্রাণ ও অনুদান: প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অসহায় ব্যক্তিদের অনুদান ও চেকে সহায়তা। শিক্ষা ও সাধারণ প্রশাসন: জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের সমন্বয়, জনশুমারি পরিচালনা এবং পাবলিক পরীক্ষা (যেমন- এসএসসি, এইচএসসি) সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিশ্চিত করা। অভিযোগ ও ই-সেবা: নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি ফরম ও আবেদন গ্রহণ। এতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেও যদি সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেল না পায় তাহলে তার মতো দু:খজনক আর কিছুই নেই। তাই এবার তারা ৯ম পে-স্কেল নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরবেন। তা না হলে রাজপথেই তারা অবস্থান করবেন।
এমন আন্দোলনের কারণে জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহিতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। জেলার রাণীনগর উপজেলা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা মো: সাইফুল ইসলাম জানান তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত কাজ করার জন্য রাজস্ব শাখায় আসেন। আজকে সেই কাজের শেষ তারিখ। কিন্তু তিনি সকালে এসে দেখেন সকল সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেলের দাবীতে আন্দোলন করছেন। কেউ অফিসে নেই। তাই কতসময় ধরে বসে থাকবে হবে তিনি জানেন না।
জেলার সাপাহার উপজেলা থেকে আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার জানান আজ তার একটি দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি ছিলো। তাই সকল কাগজপত্রাদি ঠিক করার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু এসে দেখেন কোন কর্মচারীই তার অফিসে নেই। সবাই রাজপথে নেমে পে-স্কেলের দাবীতে আন্দোলন করছেন। যদি আজকে শুনানী না হয় তাহলে তিনি চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন বলে জানান।
মন্তব্য (০)