• সমগ্র বাংলা

টেকনাফ সীমান্তে ১০ স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমার সীমান্তবর্তী  টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকা থেকে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট  উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রাথমিকভাবে এসব অংশে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও  গুরুত্বসহকারে  দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। (২০ জানুয়ারি) মঙ্গলবার সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। সীমান্তের আরও কিছু জায়গায় স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে ধারনা স্থানীয়দের। 

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। এগুলোতে আপাতত কোনো বিস্ফোরক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থলমাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট-যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়। সাধারণত একটি স্থলমাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডিটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুফাইজা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়।

নাফ নদীর এক জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নদী আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয়। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক এইভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান( ভারপ্রাপ্ত) শাহ আজিজ বলছেন, এলাকার মানুষ  মৃত্যুভয়ে রয়েছে । দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে টেকনাফের এই জনপদে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এআরএ,,আরসা ও রোহিঙ্গা  ইসলামি মাহাজ  এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এরই প্রভাবে সীমান্তের এপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। 

মন্তব্য (০)





  • company_logo