
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ বাড়তি কিছু টাকা আয় করার আশায় প্রতিদিন ভোরে তাল কুড়াতে যান কমলা । প্রতিদিনের ন্যায় ভোরে তাল কুড়াতে চলে আসে কমলা। কমলা আসার আগেি আশিক তিন চারটে তাল কুড়িয়ে একজায়গায় জমা করে। এসময় আশিকের জমা তাল থেকে তাল নিয়ে চলে যাচ্ছিল কমলা।
আশিক না করলেও কমলা তা অমান্য করে তাল কুড়িয়ে চলে যেতে থাকলে কমলাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে আশিক । এক পর্যায়ে কমলাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে লাথি দিয়ে ফেলে কমলার মুখে প্রস্রাব করে দেয় আশিক। তারপর কমলার পা ধরে টেনে হিচরে পাশের ঝোপঝাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মাটি চাপা দিয়ে বাড়িতে চলে যায় আশিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুঁতে রাখা মরদেহ ওঠানোর পরপরই উচ্ছোক জনতা সেজে ঘাতক আশিক নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ।পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পূর্বে অভিযুক্ত যুবক আশিক তাল কুড়াতে গিয়ে খুন হওয়া নারীকে খুনের এমন লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন উপস্থিত গণমাধ্যমে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ভুতুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আশিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল এবং হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামি আশিক মিয়া(২৫) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ভুতুলিয়া গ্রামের আ. হামিদের ছেলে।
নিহত কমলা বেগম (৫৫) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ভুতুলিয়া গ্রামের মো. কদম আলীর স্ত্রী।
অভিযুক্ত আশিক বলেন, কোদাল হাতুড়ি নিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় ভোররাতে ইট ভাঙার কাজ করতে রাস্তায় যায়। এসময় পাশেই সারিবদ্ধ তালগাছ। হঠাৎ করে পরপর কয়েকটি পাকা তাল গাছ থেকে পড়ে। কিছু টাকার আশায় তালগুলো জমা করে এক জায়গায় রাখি যাতে পরে বিক্রি করলে কিছু টাকা পাওয়া যায়। ফজরের আজানের পরপরই কমলা বেগম নামে ঐ নারী তাল কুড়াতে আসে। এরপর জমানো তাল নিয়ে রওনা হয়। এনিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এসময় আশিক উত্তেজিত হয়ে প্রথমে কমলাকে সজোরে চড়থাপ্পড় মারে। এরপর হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরপরই কমাল মুখে প্রস্রাব করে দেয় আশিক। এসময় কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর পাশের ঝোপঝাড়ে গিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে গর্ত করে। পরবর্তীতে কমলাকে টেনে ছেঁচছে নিয়ে মাটি চাপা দেয়। মুখে প্রস্রাব কেন করলেন এমন প্রশ্নের জবাব ঘাতক আশিক জানায়, কমলার মুখ অনেক খারাপ। ভাষা খারাপ এজন্য মুখে প্রস্রাব করছি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, বৃদ্ধার হত্যাকান্ডটি খুবই স্পর্শকাতর। স্থানীয় এক নারীর দেওয়া তথ্য মতে খুনীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। মধ্য বয়সী নারী পুলিশকে জানায়, সকাল বেলা অভিযুক্তের হাতে কোদাল দেখেছে। এই সন্দেহ থেকেই পুলিশের বিশেষ অভিযানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে ।
উল্লেখ্য, গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে তাল কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজের ছয়ঘন্টা পর বাড়ির অদূরে মাটিতে পুঁতে রাখা বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ভুতুলিয়া গ্রামের একটি মাঠের কোণে মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ পাওয়া যায়।
মন্তব্য (০)