
নওগাঁ প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মকান্ড ও সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কের কারণে সবচেয়ে আলোচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে নওগাঁর রাণীনগরের ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয়। সম্প্রতি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
ইতিমধ্যই অভিভাবক ও স্থানীয়রা নয়া সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করে বিদ্যালয়টির সুন্দর ও শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠদানের ছিমছাম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে। নতুন সভাপতির যোগ্য নেতৃত্ব ও কঠোর পদক্ষেপে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠটি তার হারানো সুনাম ফিরিয়ে পাবে এবং সুষ্ঠ পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষায় নিজেকে একজন নিরাপদ মানুষ হিসেবে বিনির্মাণের মাধ্যমে ভালো ফলাফলের মধ্যদিয়ে বিদ্যালয়ের নাম পুনরায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
১৯৮৬ সালে কাশিমপুর ইউনিয়নে “শিক্ষার আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো” স্লোগান দিয়ে গ্রামের লোকজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা বুয়েট, কুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বিগত সময়গুলোতে বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, শিক্ষকদের দলাদলি, অবৈধ প্রাইভেট পড়ানো বিষয়ে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিগত আ’লীগ সরকারের সময় দায়িত্বরত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে পাঠদান না করা, সম্প্রতি সময়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে আবেদনকৃত প্রার্থীদের একে অপরের বিষয়ে অপপ্রচার চালানো, মারপিট করার ঘটনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করাসহ নানা বিষয়ে নেতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপিঠটি। যার ফলে বছরের পর বছর বিদ্যালয়টিতে পাঠদানের সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অভিভাবকরা। এমন জীর্ণদশা থেকে বিদ্যায়লটিকে মুক্ত করে পাঠদানের একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত করণীয় বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নয়া সভাপতির সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের নয়া সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান বিদ্যালয়টির হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে প্রথমেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। প্রাইভেট যুদ্ধ কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে অসম যুদ্ধ নয় শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী পাঠদান করে সুনাম ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সহায়তা ও শেখার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য শিক্ষকদের দক্ষ ও নিবেদিত হতে হবে। কোচিং/প্রাইভেট সেন্টার না শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পাঠ গ্রহণের উপর্যুক্ত স্থান হিসেবে বিদ্যালয়কে বিনির্মাণ করতে হবে, সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসছে কিনা সেই বিষয়গুলো শিক্ষক ও অভিভাকদেরকে যথাযথভাবে মনিটরিং করতে হবে।
এছাড়া বিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে যথাযথভাবে পাঠদান চলছে কিনা তা মনিটরিং করা, সঠিক ভাবে পাঠদানে কারো অবহেলা/গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে চাকুরী বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সর্বপরি অত্র এলাকার অভিভাবক, সুধীজন ও সর্বস্তরের জনসাধারণদের সচেতন করতে নানা কর্মকান্ড বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। বিদ্যালয়ের এহেন দৈন্যদশা দূর করতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের গঠনমূলক ভূমিকার কোন বিকল্প নেই। তাই বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে তথ্যপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে তিনি সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। সবার সম্বলিত গঠনমূলক প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি পুনরায় তার হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য (০)