• সমগ্র বাংলা

আমরা বিগত ১৮ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যুগ পার করেছিঃ মাওলানা এ টি এম মাছুম

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। একটা অন্ধকার যুগ পেরিয়ে আলোর সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। অত্যাচার জুলুম নির্যাতন খুন-খারাবি লুটপাটের জঘন্যতম একটি স্বৈরাচারী অধ্যায় পেরিয়ে আমরা এদেশকে আবারো গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে অর্পণ করে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে গড়ার স্বপ্ন দেখছি। বিগত অধ্যায়টি আমাদের জন্য বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত থাকবে। এদেশে আমরা বিগত ১৮ বছর কিভাবে ছিলাম সেটা আপনাদের আমাদের সবারই জানা আছে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) নগরীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁর হল রুমে আয়োজিত দিনব্যাপী ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানান এ.টি.এম মা'ছুম বলেন, আমরা দেড় হাজার বছর পূর্বে আইয়ামে জাহেলিয়াত সম্বন্ধে জানি। আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগের চিত্র যদি আমরা আমাদের সামনে রাখি তাহলে গত ১৮ বছরের আওয়ামী লীগের জাহিলিয়াত তার চেয়েও জঘন্য। আইয়ামে জাহেলিয়াতেও মানুষ মেরে লাশের উপরে নিত্য করা হয়নি। আওয়ামী জাহিলিয়াদের যুগে এই ধরনের জঘন্যতম পৈশাচিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। আমরা উভয় দিক থেকেই একটা সংকটের মধ্যে বিগত আঠারো বছর কাটিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, একটি হচ্ছে দেশ ধ্বংসের সংকট। একটি হচ্ছে ইসলামকে নির্মূল করার সংকট। এই দেশকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম একটি কালো ইতিহাস হিসেবে থাকবে। মানুষের ভোটাধিকার তারা কেড়ে নিয়েছে। সভা সমাবেশ করার অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছে। শ্রমিক মজুরের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানুষের জীবনের শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আওয়ামী স্বৈরাচারের কবলে পড়ে দেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মানুষের মৌলিক অধিকার ভুলণ্ঠিত হয়েছিল। শ্রমিক কৃষক মজুর সর্বত্রই মানুষের মধ্যে আমরা একটা হাহাকার দেখতে পেয়েছি। হত্যা সন্ত্রাস গুম হামলা-মামলা অন্যায় জুলুম পাপাচার লুটপাট মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি। দেশের অর্থ ব্যবস্থা কে ধ্বংস করে দিয়ে ব্যাংক লুটে খালি করে দিয়ে কোটি কোটি ডলার পাচার করে লুট করে বিদেশে জমা রাখা বেগমপাড়া তৈরি করা এ ধরনের জঘন্যতম অমানবিক অগণতান্ত্রিক এবং অন্যায় আচরণ বাংলাদেশে আমরা দেখতে পেয়েছি। 

মাওলানান এ.টি.এম মা'ছুম বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে ইসলাম ইসলামী আন্দোলন মুসলিম জাতিসত্তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলেও এই ক্ষতি থেকে আমরা আগামী ৫০ বছরেও উদ্ধার পাবনা। যে দলটি ক্ষমতার মসনদে ছিল আসলে জন্মগতভাবে ইসলামবিদ্বেষী ছিল। তাদের নেতা ভাসানী এই দলটির নাম আওয়ামী মুসলিম লীগ রেখেছিল। ইসলামবিদ্বেষ তাদের মগজে এত পরিমাণ ছিল যে তারা মুসলিম শব্দটি বাদ দিল। দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ রেখেছে। একাত্তরে যারা ক্ষমতাই এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রামে একটি কোরআনের আয়াত ছিল এই আয়াতটি তারা বাদ দিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মনোগ্রাম থেকে কুরআনের আয়াত তারা বাদ দিয়েছে। পুরান ঢাকার বাহাদুরসা পার্কে ইসলামী ইন্টারমিডিয়েট নামে একটি কলেজ ছিল। ইসলাম থাকার কারণে কলেজের নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয়। নাম রাখা হয় কবি নজরুল ইসলাম কলেজ। এখানেও কবির নাম কে খন্ডিত করে ইসলাম বাদ দিয়ে রাখা হয় কবি নজরুল কলেজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল। এখান থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে সলিমুল্লাহ হল রাখা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাম রাখা হয়।তারা ক্ষমতায় এসে একটি নাস্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা এদেশের মানুষের গায়ে চাপিয়ে দিয়েছিল। সেটি আরো জঘন্যতম রূপ ধারণ করে বাংলাদেশের প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহর নবী বলেছেন তোমাদের সন্তানরা যদি সাত বছর পরে তাহলে তাদেরকে নামাজের তাগিদ দাও। আর শেখ হাসিনা সর্বশেষ কাল যে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করেছিল সে শিক্ষা নীতিতে বলেছে যে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ছেলেদেরকে ইসলামী শিক্ষা দেয়া যাবে না। অন্যদিকে স্কুলের সিলেবাসে যৌনশিক্ষা দেশে বৈধ করেছে। তারমানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জেনা বেবিচারের শিক্ষা দেয়ার আয়োজন সে করেছিল। যেসব বই পুস্তকে মুসলিম পুরুষ কবি সাহিত্যিকদের কবিতা সাহিত্য ছিল এগুলো তারা বাদ দিয়ে অন্য ধর্মের লেখকদের গল্প কবিতা তারা বাস্তবায়ন করেছে। হাসিনার পতনের কিছুদিন আগেও স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের কভারে দুর্গা দেবীর ছবি দেয়া ছিল। কি পরিমাণ উপহাস তারা ইসলামের বিরুদ্ধে করেছে এর থেকে বোঝা যায়।

মাওলানান এ.টি.এম মা'ছুম বলেন, কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মদপানকে হারাম করেছেন। আর শেখ হাসিনা মদকে বৈধতা দিয়েছেন। হাটে বাজারে বিভিন্ন জায়গায় মদের কল্যাণ আজকে শোভা পাচ্ছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা উঠতি বয়সে মদের নেশায় আজকে তারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যারা এ দেশের ভালো চায়না তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নষ্ট করতে চায়। দেশের স্বাধীনতা চায় না যারা আমাদের দেশের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চায় তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নষ্ট করে দিতে চায়। যারা এদেশকে প্রতিবেশী রাজ্যের অঙ্গরাজ্য বানিয়ে দিতে চায় তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সূচনা লগ্নেই নেশা ধরিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন আল্লাহর রাসূলের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে নাস্তিকদের দিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করিয়েছে। মাদ্রাসাগুলোকে তারা জঙ্গি তৈরির কারখানা বলেছে। শাপলা চত্বরে তারা নিরীহ আলেম-ওলামাদেরকে যেভাবে হত্যা করেছে পৃথিবীর ইতিহাসে হিটলার কেও হার মানায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সম্ভাবনাময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে তারা সবচেয়ে বেশি জুলুম নির্যাতনের শিকারে পরিণত করেছিল।

তিনি আরো বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মোজাহিদ, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, কামরুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলী সহ অগণিত নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামালা দিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে তারা হত্যা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন তারা বাতিল করেছে। কি অপরাধে বাতিল করেছে? হাসিনার  নির্বাচন কমিশন বলেছিল জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ওই ধারাটা বাতিল করতে হবে যে ধারাতে আল্লাহ সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার কথা লিখা। আমরা বলেছিলাম এটা আমাদের ঈমানের অংশ। আমরা এটা পরিবর্তন করতে পারব না। এরপর আমাদের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হয়। 

স্বৈরাচার সরকার পতনের আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছে তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য আমরা দোয়া করছি। আর যারা আহত হয়েছে তাদের সুস্থতার জন্যও আমরা দোয়া করছি। ৫ আগস্টের গণঅভ্যু্ত্থানের পর বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। আন্দোলন করা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী। এই পনেরো বছরে যত বৈষম্য ছিল, জুলুম ছিল, যত নির্যাতন ছিল, যত শোষণ ছিল, যত বঞ্ছনা ছিল এগুলো দূর করে বাংলাদেশটাকে একটি বসবাসের উপযোগী শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলার দায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে। সেই দায়িত্বকে সামনে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ জেলা আমীর মো. আব্দুল করিম, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল।

এছাড়াও ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, অর্থ  সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য সহ বিভন্ন সাংগঠনিক থানা শাখার দায়িত্বশীলবৃন্দ। 

মন্তব্য (০)





image

পাবনায় সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশু ও মোটরসাইকেল আরোহীর

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে অটোরিকশায় চলন্ত অবস্থায় মা...

image

পঞ্চগড়ে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় পুকুরের পানিতে গোসল ক...

image

রাণীনগরে গ্রাম আদালতের বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে...

image

৫৮ ঘণ্টা পরও সমাধান নেই, ফের ১০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব...

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষি...

image

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ...

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নারগুন ইউনিয়ন তুচ্...

  • company_logo