• সমগ্র বাংলা

নড়াইলে হরি নদের তীরে ঋষি পল্লীর মতুয়া উৎসব

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের আগদিয়া গ্রামে ৩৩ তম মতুয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ১২ জুন)আগদিয়া হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন সেবা আশ্রম ও মন্দিরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এ উৎসব। 

মতুয়া উৎসব ঘিরে গ্রামটিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। মাগুরা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৫ টি মতুয়া দল এ উৎসবে অংস নেন। ঢাক,ঢোল, শঙ্ক ও সানায়ের সুরে অনুষ্ঠান স্থলের চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। যা দেখতে জেলা শহর ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশত ভক্ত দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। 

উৎসব ঘিরে হরি নদীর তীরে গ্রামীন মেলা বসে। মেলায় হরেক রকম পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। মুড়ি, মুড়কি, পাপর,চানাচুর, মিষ্টি মিঠাই সহ মেয়েদের সাজসজ্জার নানা উপকরণ ছিল চোখে পড়ার মত।

নড়াইল জেলা শহর থেকে মতুয়া উৎসব দেখতে যান বিপুল অধিকারী। তিনি বলেন, 'ভৈরী আবাহাওয়া উপেক্ষা করে এত মানুষের সমাগম চোখে পড়ার মত। বিমল দাদার মতুয়া উৎসব ৩৩ বছর ধরে হয়ে আসছে৷ আমি আমার পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। বেশ ভাল লাগছে। '

নিরালী গ্রাম থেকে মতুয়া উৎসব দেখতে এসেছেন সম্রাট বিশ্বাস। তিনি বলেন, 'মতুয়া উৎসব আমার পছন্দের একটি অনুষ্ঠান। এখানে শত শত মানুষের ঢল নামে। হরি ভক্তরা ডাঙ্গা বাজিয়ে নাচে। নাচ ও হরি নাম শুনতেই এই উৎসব যেখানে হয় সেখানে ছুটে যাই। নদীর তীরে বিমল দাদার এই অনুষ্ঠান অন্য জায়গার চেয়ে অনেক ভিন্ন। আমি পাঁচ বছর ধরে এই মন্দিরে অনুষ্ঠান দেখতে আসি।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন সেবা আশ্রমের পূজারি বিমল বিশ্বাস বলেন,

'দেশ জাতির শান্তি কামনা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্য শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে হরি গুরুচাঁদ ঠাকুরের আগমন।হরি গুরুচাঁদের স্মরনে গত ৩৩ বছর ধরে আমাদের এই মন্দিরে মতুয়া উৎসব হয়ে আসছে। উৎসব ঘিরে গতকাল থেকে ভক্তবৃন্দ আসা শুরু করেছেন। এখানে জেলা শহর ছাড়া ও বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৩৩ টি মতুয়া দল এসেছেন। আবাহাওয়া খারাপ না হলে এখানে আরো মতুয়া দল ও ভক্ত দর্শনার্থীদের ভিড় হত।'

মতুয়া বিমল বিশ্বাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান  শুরুতে ধর্মীয় আলোচনা সভা হয়।সভায় বক্তব্য দেন,জেলা হরি গুরু চাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি মতুয়া অসিম পাল। প্রধান বক্তা মতুয়া দেব মজুমদার, মতুয়া দেবাশীষ বিশ্বাস, মতুয়া সৈমেন সাহা,মতুয়া অশোক কুমার কুন্ডু প্রমুখ।

মন্তব্য (০)





  • company_logo