রংপুর ব্যুরোঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর মহানগরীতে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ কাজ করছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)।নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ৬৬টি নির্ধারিত স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে।একই সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে নগরীর শাপলা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন। এ সময় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যত্রতত্র পশু কোরবানি না করে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিন।এতে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, তেমনি দ্রুত বর্জ্য অপসারণও সহজ হবে।”
তিনি বলেন, রংপুরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোরবানির পশুর বর্জ্য যেন কেউ শ্যামাসুন্দরী ক্যানেল, কেডি ক্যানেল কিংবা নগরীর বিভিন্ন ড্রেন ও খালে না ফেলেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সিটি প্রশাসক আরও জানান, প্রতিটি নির্ধারিত কোরবানির স্থানে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, মসজিদ-মাদরাসার হুজুর ও দক্ষ কসাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া কোরবানির পর দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারিভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ১২ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হলেও রংপুর সিটি করপোরেশন ৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।”
রসিক সূত্র জানায়, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচ্ছন্নতা বিভাগ ইতোমধ্যে পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ কাজে সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে তিনটি জোনে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য অপসারণে ব্যবহার করা হবে ট্রলি, রিকশাভ্যান ও ট্রাক। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নগরবাসীর সুবিধার্থে পশুর বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তার জন্য একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে রসিক। হটলাইন নম্বরটি হলো— ০১৭৩৩৩৯০১৫০।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহার দিন সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে কাজ শুরু করবেন। কোরবানির স্থানগুলোতে দ্রুত বর্জ্য সংগ্রহ, জীবাণুনাশক ছিটানো ও পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
রসিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা গেলে ঈদের দিন নগরবাসী দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের ভোগান্তি থেকে মুক্ত থাকবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান,পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই নির্ধারিত স্থানে কোরবানি এবং নির্ধারিত নিয়মে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য (০)