• সমগ্র বাংলা

নড়াইলে ফুটবল টুর্নামেন্টে লটারির হানা, বিনোদন নাকি জুয়ার ফাঁদ?

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের নামে চলছে রমরমা জুয়ার বাণিজ্য। গতকাল শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার শেখহাটি তপনভাগ যুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে এই লটারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিনোদনের আড়ালে এটি আসলে এক ধরনের জুয়া, যা সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করছে।

‘স্থানীয় যুব সমাজ’-নামের একাটি ব্যানারে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট ও লটারির আয়োজন করা হয়। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে দাবি করা জিকো মাহমুদ নামক এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, লটারির টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও পুরস্কারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে একদিকে খেলা চলছে, অন্যদিকে প্রধান ফটক ও আশপাশে একদল যুবক দর্শকদের লটারির টিকিট কাটতে বাধ্য করছে। ১০ টাকা মূল্যের এই টিকিট কেনা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা অনেকে জানান।

এর আগেও খেলার নামে কয়েকবার লটারি করা হয়েছে। কত টাকার টিকিট বিক্রি হয় আর কত টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়, তার কোনো হিসাব নেই। নিষেধ করলেও (আয়োজকরা) কর্ণপাত করে না।

এ ধরণের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি 'জুয়া' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সমাজকর্মী কাজী হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, "পুরস্কারের আশায় অর্থ ব্যয় করে অনিশ্চিত লাভের বাজি ধরাই জুয়া। গ্রামের সাধারণ মানুষ লোভে পড়ে এতে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"

লটারির অনুমতি প্রসঙ্গে আয়োজক জিকো মাহমুদ দাবি করেন, তারা এসপি ও ওসিকে জানিয়েই এই আয়োজন করেছেন। এমনকি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। লটারির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান:

র‌্যাফেল ড্র আনন্দের বিষয়। খেলাধুলার সহযোগিতায় এটি করা হয়েছে। তবে এটি আয়োজনে কোনো আইনি বাধা আছে কি না, তা আমার জানা নেই।"পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সেখানে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। আয়োজকরা যে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেয়নি, সেটি হয়তো ওই সদস্যকে জানানো হয়নি।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল ছালাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "র‌্যাফের ড্র আয়োজন করতে হলে জেলা প্রশাসন থেকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হয়। তারা আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন প্রকাশ্য লটারি ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নড়াইলের সাধারণ মানুষ।#

মন্তব্য (০)





image

যারা ধানের শীষে ভোট দেননি তারা এখন আফসোস করছেন: এমপি আরিফ...

পাবনা প্রতিনিধি : সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ...

image

ফরিদপুরে ভ্যানচালককে মারধরের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটন...

image

ত্রাণমন্ত্রীর উদ্যোগে লালমনিরহাটে ভাই-বোন পেলেন মাথা গোঁজ...

‎​লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে রেললাইনের পাশে জরাজ...

image

চাটমোহরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ

পাবনা প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহ...

image

চাটমোহর প্রিমিয়ার ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের আয়ো...

  • company_logo