• রাজনীতি

রাজনীতিতে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের আহ্বান তাসনিম জারার

  • রাজনীতি

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নীতিনির্ধারণী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি ঢাকা-৯ আসনে এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনায় তাসনিম জারা বলেন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের শতকরা হার নিয়ে আলোচনা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের হাতে কতটা বাস্তব ক্ষমতা রয়েছে, সেই বিষয়টি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না। তার মতে, শুধু অংশগ্রহণই ক্ষমতায়ন নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারাটাই প্রকৃত রাজনৈতিক অধিকার।

সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে দলের মনোনয়নের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। ফলে তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা অনেকাংশে সীমিত হয়ে পড়ে।

তৃণমূল পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী সক্রিয় থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে নারীরা এখনও পিছিয়ে আছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, রাজনীতির উচ্চপর্যায়ে এক ধরনের অদৃশ্য পুরুষতান্ত্রিক নেটওয়ার্ক বা প্রভাবশালী কাঠামো নারীদের এগিয়ে যেতে বাধাগ্রস্ত করছে।

নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তাসনিম জারা বলেন, রাজনীতিতে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। যারা নিয়ম মেনে নির্বাচনি প্রচার চালাতে চান, তাদের জন্য পরিবেশ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে না পারে, তাহলে সৎ ও নতুন প্রজন্মের প্রার্থীদের জন্য রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

আলোচনায় তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বা অনলাইন হয়রানির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি একে ‘অ্যান্টিসিপেটরি সাইলেন্সিং’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারীদের রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই নিরুৎসাহিত করার একটি সূক্ষ্ম কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তার মতে, অনলাইন বুলিংয়ের মাধ্যমে নারী নেতৃত্বকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়, যা দেখে নতুন প্রজন্মের অনেক মেধাবী নারী রাজনীতিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন।

তাসনিম জারা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে নারীদের কেবল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই চলবে না; বরং তাদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ও শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo