ছবিঃ সিএনআই
শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষা কৃষি জমির মাটি ১০০ ফুট গভীর খনন করে লুটপাট করছে মাটি খেকোরা। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি জমি এবং পরিবেশের। গভীর খননের ফলে নিচের স্তরে মাটির পরিবর্তে দেখা মিলেছে সিলিকন বালুর। সন্ধ্যা রাত থেকে শুরু হয়ে ভোররাত পর্যন্ত চলে মাটি খেকোদের দাপট। মাটি খেকোদের দাপটে আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলো খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও থামছে মাটি লুটপাট।
সরেজমিনে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাদশাহ নগর এলাকায় কয়েক একর কৃষি জমি থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। চিহ্নিত মাটি খেকো শহিদুল ইসলাম ওরফে মাটি শহিদ নামে এক ব্যক্তি রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে প্রথমে সাইটালিয়া গ্রামে স্তুপ করে রাখে। পরে রাতের আধারে পৌঁছে দিচ্ছে বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়। মাটির গাড়ি চলাচলের কারণে আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলো ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি জমির কোন কোন স্থানে ১০০ ফুট গভীর খনন করা হয়েছে। মাটির কয়েক স্তরের নিচে বের হচ্ছে দামি সিলিকন বালু। একরের পর একর কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি খেকোরা। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে এসব মাটি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় মাটিকাটা। একের পর এক মাটিভর্তি ড্রাম ট্রাক যাতায়াত করে রাস্তা দিয়ে। মাটি ভর্তি এসব ট্রাকের জন্য আশপাশের সব রাস্তা ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের আশপাশের মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না ডাম্প ট্রাকের শব্দে। আমরা প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাদশা নগর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় কৃষকদের থেকে নামমাত্র মূল্যে জমির মাটি কিনে নিয়ে গভীর খনন শুরু করে মাটি খেকোরা। বাদশাহ নগর এলাকার কৃষি জমি গুলোতে যে পরিমাণ খনন করা হয়েছে। সেখানে উপর থেকে নিচে তাকানো যায় না । পাড়ে দাঁড়িয়ে নিচে তাকালো মাথা ঘুরে। আনুমানিক ১০০ ফুট গভীর খনন করা হয়েছে। নিচের স্তরে মাটি নেই। শুধু সিলিকন বালু।
মাটি ব্যাবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, আমি কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে কেটে বিক্রি করি। এত বেশি গভীর হবে না। কিছুটা কম হবে। আমি এ পর্যন্ত কোন সরকারি জমির মাটি কেটে নেয়নি। আপাতত মাটিকাটা বন্ধ রয়েছে।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, কৃষি জমির মাটি গভীর খনন করে কাটার ফলে হুমকিতে পড়বে বনাঞ্চল। যেখানে মাটি কাটা হচ্ছে তার পাশেই বিশাল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। মাটি লুটপাটের ফলে বনাঞ্চল হুমকিতে পড়বে। এবিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, মাটি খেকোদের ধরার জন্য প্রশাসনের পক্ষে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাটি খেকো শহীদকে ধরতে প্রতিরাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাদশাহ নগর এলাকায় মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।
পাবনা প্রতিনিধিঃ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা চাল...
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ অবশেষে ফরিদপুরের আলীমুজ্জামান সেতুর...
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর-৩ (মেলান্দহ–মাদারগঞ্জ) স...
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্র...
নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে জেলেদের টানা জালে এক স...

মন্তব্য (০)