• জাতীয়

ফেলানী হত্যা দিবস আজ, এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ দুটি দেশ বা অঞ্চলের মধ্যবর্তী সীমারেখা সীমান্ত; যা একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। কিন্তু সেই সীমান্ত যখন মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার নির্মম মঞ্চে পরিণত হয়, তখন তা মানবতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা একটি নিথর দেহ—এ দৃশ্যই যথেষ্ট হৃদয়বিদারক। আর সেই দেহটি যদি হয় মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশুর, তবে সেই বেদনা আরও গভীর হয়।

‎দুটি দেশ বা অঞ্চলের মধ্যবর্তী সীমারেখা সীমান্ত; যা একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। কিন্তু সেই সীমান্ত যখন মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার নির্মম মঞ্চে পরিণত হয়, তখন তা মানবতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা একটি নিথর দেহ—এ দৃশ্যই যথেষ্ট হৃদয়বিদারক। আর সেই দেহটি যদি হয় মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশুর, তবে সেই বেদনা আরও গভীর হয়।

‎২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের মানুষ এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার মরদেহ প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল।

‎ফেলানীর সেই ঝুলন্ত মরদেহের ছবি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সে বেদনাদায়ক ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর ৭ জানুয়ারি দিনটি ‘ফেলানী হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

‎ফেলানী খাতুন বাংলাদেশর কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের এক কিশোরী। সে নুরুল ইসলাম এবং জাহানারা বেগম দম্পতির মেয়ে। আট ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়।

‎গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩০ ঘণ্টা পর তার মরদেহ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে ফেরত দিয়েছিল বিএসএফ। এরপর দেশে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে ৭৩ ঘণ্টা পর কুড়িগ্রামে নিজ গ্রামেই দাফন করা হয় তাকে, চিরনিদ্রায় শায়িত হয় নিথর-নিষ্পাপ ফেলানী।

‎এ নির্মম হত্যায় জড়িত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষের নামে ভারতের কুচবিহারের দিনহাটা পুলিশ স্টেশনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহার জেলার বিএসএফের ১৮১ সদর দপ্তরে অবস্থিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচারকাজ শুরু হলেও সেবছরই ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

‎এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে সে দেশের সরকারকে ন্যায়বিচারের আশায় পত্র লেখেন। এতে আবারও ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা একাধিকবার স্থগিত হয়।

‎পরে ২০১৫ সালে আইন ও শালিস কেন্দ্র এবং ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ আরও একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করে। ৩১ আগস্ট ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ভারত সরকারকে ফেলানীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ রুপী প্রদানের অনুরোধ করেন।

‎সে ক্ষতিপূরণ আদায় তো দূরের কথা, বরং এ ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামকেই দায়ী করে। পরে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে গেলেও ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির দিন ধার্য হয়। আজও সেই শুনানির অপেক্ষায় ফেলানীর পরিবার। ফেলানী আদৌ কখনও ন্যায় বিচার পাবে কি না, তা জানে না কেউ।

মন্তব্য (০)





image

বাংলাদেশে বিমানবন্দর সেবায় নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে: ...

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশে বিমানবন্দর সেবায় নতুন সংস্কৃতি গড়...

image

পাহাড়ি অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়নে তৃতীয় ধাপে সৌরবিদ্যুৎ প্র...

নিউজ ডেস্কঃ রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম পার...

image

‎শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ ...

নিউজ ডেস্কঃ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধান...

image

‎ঊর্ধ্বমুখী মাছ-মুরগির দর, ডিম-সবজির দামেও ফেরেনি স্বস্তি ‎

নিউজ ডেস্কঃ বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর মাছ বাজার বেশ ঊর্ধ্...

image

‎বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট ‎

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং ই...

  • company_logo