শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে মো. মিন্টু মিয়া(২৫) নামের এক যুবককে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাত ঘন্টা নির্যাতনের পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর গ্রামের সূতাপাড়া এলাকার বিশালের বাড়ি থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এসময় নির্যাতনকারী তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয় । পরে রাতেই মিন্টু বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। নির্যাতনের শিকার মো. মিন্টু মিয়া(২৫) উপজেলার বহেড়ারচালা গ্রামের আউয়ালের মোড় এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, শ্রীপুর গ্রামের মো. সেলিম গনির ছেলে পাভেল(২২),আছর আলী ফকিরের ছেলে মো. ইব্রাহীম(২৮) এবং মৃত আ. মান্নানের ছেলে মো. জসিম(৩৮)। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীপুর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের পাভেলের দোকানের পাশে অটোরিকশা রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান এক অটোরিকশা চালক। এ সুযোগে মিন্টু ওই রিকশা নিয়ে যেতে থাকে।এসময় স্থানীয় কতিপয় যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশার পিছু ধাওয়া করে। কিছু দূর গিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধান খেতে উল্টে পড়ে। যুবকরা মিন্টুকে ধরে পাভেলের দোকানের সামনের খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতন করে।
সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায় যুবকরা মিন্টুকে প্রথমে গণধোলাই দিচ্ছে। যে যার মতো কিল-ঘুষি-লাথি মারছে। এক মিনিট বাইশ সেকেন্ড, পঞ্চাশ সেকেন্ড ও এক মিনিট এক সেকেন্ডের তিনটি ভিডিওতে নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়। অভিযুক্তরা যে যার মতো করে মিন্টুকে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিছু দূর যেতেই ওই যুবকরা মিন্টুকে ফের ধরে। তাকে শ্রীপুর গ্রামের সূতাপাড়া এলাকার বিশালের বাড়িতে নিয়ে যায়। সে খানে তাকে খুঁটির সাথে বেঁধে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন করা হয়।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশ বিশালের বাড়ি থেকে মিন্টুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। ভিকটিম মিন্টু মিয়া জানান, তিনি চোর নন।এর আগে কখনো চুরি করেননি। তার পঁচিশ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। সে টাকার চাপে বাধ্য হয়ে অটোরিকশা চুরি করেন। যুবকরা তাকে ধরে নির্মম ভাবে খুঁটির সাথে বেঁধে মারপিট করে। হাতে পায়ে ধরেও রক্ষা পাইনি। আমি মরে যাব বলে আমাকে ছেড়ে দেয়।
কিছু দূর যাবার পর আমাকে ধরে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেও খুঁটির সাথে বেঁধে মারপিট করে। রাতে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। এতে আমি প্রানে বেঁচে যাই। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) শুভ মন্ডল জানান, এক যুবককে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি পাভেলের দোকানের সামনে মারপিট করে মিন্টুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পরে তাকে সূতাপাড়া এলাকার বিশালের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই মিন্টুকে পুনরায় ওই বাড়িতে খুঁটির সাথে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মিন্টুকে উদ্ধার করি। ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। আহত মিন্টুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক যুবককে নির্যাতনের খবর পাই। তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। রাতেই মামলা হয়েছে। তিন জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য (০)