কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের বিচ এলাকার মেরিন ড্রাইভ রোড হতে কুখ্যাত মাদক কারবারি , ইয়াবা সম্রাট ও পার্শ্ববর্তী দেশ হতে মাদক চোরাকারবারীর অন্যতম হোতা আব্দুল আমিনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ২০ মে রাত ২টার দিকে পাটুয়ারটেক চেংছড়ি মেরিন ড্রাইভ রোডে বিশেষ তল্লাশীর মাধ্যমে একটি বিলাস বহুল প্রাইভেটকার থেকে এসব মাদক উদ্ধার করে।
এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ১৫ উপ-অধিনায়ক মেজর, মোহাম্মদ শরীফুল আহসান জানান, কক্সবাজার এর আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারী আব্দুল আমিন তার মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যসহ মাদকের একটি বিশাল চালান নিয়ে একটি বিলাস বহুল প্রাইভেটকারযোগে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার শহরের দিকে আসছে।
উক্ত তথ্যের অদ্য রাত ০২.১০ ঘটিকার সময় র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পাটুয়ারটেক চেংছড়ি মেরিন ড্রাইভ রোডে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে মাদক উদ্ধারের একটি বিশেষ তল্লাশী অভিযান শুরু করে। তল্লাশী চলাকালীন সময়ে টেকনাফ থেকে আগত কক্সবাজারগামী একটি কালো রং এর একটি বিলাস বহুল প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দিলে তা অমান্য করে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টাকালে র্যাবের আভিযানিক দল প্রাইভেটকারটি থামাতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে প্রাইভেটকারে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় গাড়িটি উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে তল্লাশী করে গাড়ির পিছনে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থা থেকে সর্বমোট ৭,০০,০০০ (সাত লক্ষ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। এ সময় উক্ত মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ইয়াবা সম্রাট আব্দুল আমিন’সহ মাদক সিন্ডিকেটের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
৫। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল আমিন (৪০), পিতা-হাজী মোহাম্মদ আলী, সাং-ডেইল পাড়া, ৬নং ওয়ার্ড, টেকনাফ পৌরসভা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
(২) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩৫), পিতা-আবু সৈয়দ, সাং-গোদার বিল, ৬নং ওয়ার্ড, সদর ইউনিয়ন, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
(৩) নুরুল আবসার (২৮), পিতা-মৃত মোহাম্মদ কাশেম, সাং-গোদার বিল, ৬নং ওয়ার্ড, সদর ইউনিয়ন, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
(৪) জাফর আলম (২৬), পিতা-মৃত দীল মোহাম্মদ, সাং-ডেইল পাড়া, ৫নং ওয়ার্ড, টেকনাফ পৌরসভা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আব্দুল আমিন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা সম্রাট ও মাদক সিন্ডিকেটটির অন্যতম সদস্য। সে প্রথমে মুদির ব্যবসা এবং বিভিন্ন গরুর হাটের ইজারাদারি করতো। পরবর্তীতে সে পলিথিন ও কার্পেট ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়। এসব ব্যবসায়ের আড়ালে ইয়াবার ব্যবসায়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
সে আরও জানায় যে, বার্মাইয়া সিরাজের ইয়াবার বিশাল সব চালান সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলারযোগে আব্দুল আমিনের নিকট পৌঁছাতো। এ সকল ইয়াবার চালান দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে এসে কয়েক দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে মজুদ করতো। পরবর্তীতে মজুদকৃত মাদকের চালান স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নির্ধারিত এজেন্টদের নিকট সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করে থাকে।
অদ্য র্যাব কর্তৃক উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালানটি কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার এজেন্টদের চাহিদা মোতাবেক পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রাইভেটকারযোগে টেকনাফ থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল মর্মে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১১টির অধিক মামলা রয়েছে।
মন্তব্য (০)