• লিড নিউজ
  • অপরাধ ও দুর্নীতি

মানিকগঞ্জে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন ও আসামী গ্রেপ্তার

  • Lead News
  • অপরাধ ও দুর্নীতি

ছবিঃ সিএনআই

মা‌নিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে আলোচিত লায়লা বেগম (৪০) হত্যা রহস্যের জট উন্মোচনের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

র‌বিবার (১২ মে) ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে শনিবার (১১ মে) মো. দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহত লায়লা বেগম হত্যাকাণ্ডে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার তদন্তকারী পিবিআইয়ের উপপুলিশ পরিদর্শক মো. নাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পি‌বিআই সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে, বাদী মোঃ সিকান্দার আলীর স্ত্রী (ভিকটিম) মোসাঃ লায়লা বেগম (৪০) একজন গৃহিণী। গত ৯ মে সন্ধ্যা ভিকটিম লায়লা বেগম তার কাজে বাড়ি থেকে বের হয়। অতঃপর সে আর বাড়িতে ফেরত না আসায় বাদী একাধিকবার ভিকটিম লায়লা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করতে পারে নাই। প‌রের দিন লোক মাধ্যমে সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানাধীন খলসী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর সাকিনস্থ নারছি চকে মানিকের তিল ক্ষেত এবং জনৈক ওহাব এর ধান ক্ষেতের মাঝে পানি চলার ড্রেনের মধ্যে একজন মহিলার লাশ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে বাদী সহ বাদীর আত্মীয় স্বজন বর্ণিত স্থানে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের লাশ সনাক্ত করে। ভিকটিমের কোমড় হতে পা পর্যন্ত উন্মুক্ত, পড়নের বেগুনি রংয়ের সালোয়ার দিয়ে তার নাক মুখ শক্ত করে বাধা, তার বাটিক প্রিন্টের ছাপার ওড়না দিয়ে গলায় শক্ত করে বাধা অবস্থায় পূর্ব শিয়রীতে চিত অবস্থায় উল্লেখিত স্থানে ভিকটিম লায়লা বেগম এর লাশ পরে আছে। পড়নে শুধু বেগুনি রংয়ের প্রিন্টের কামিজ ছিল। দৌলতপুর থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। 

পিবিআই, মানিকগঞ্জ জেলার প্রধান পুলিশ সুপার, এম, কে, এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় পিবিআই, মানিকগঞ্জ জেলার চৌকস টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই মানিকগঞ্জ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ বিবেচনায় নিয়ে তদন্তকার্য অব্যাহত রাখে এবং কতিপয় ব্যক্তির তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক তাদের গতিবিধি পর্যালোচনা পূর্বক তাদেরকে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে সন্দিগ্ধ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম লায়লা বেগম এর হত্যাকান্ডের সহিত আটককৃত দুইজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আসামী দৌলতপু‌রের চর মস্তুল গ্রা‌মের মৃত আলতা‌ফের পুত্র মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪২) এবং ঘি‌ওর উপ‌জেলার কুস্তা গ্রা‌মের আছর উ‌দ্দি‌নের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক ভোটন (৫৮) কে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানাধীন খলসী ইউনিয়নের পাড় মাস্তুল গ্রাম হতে ১১ মে গ্রেফতার করা হয়। আসামী ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিবৃতি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা যায় যে, ২০০৫ সাল থেকে ভিকটিম লায়লা বেগমের সাথে আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের পরকীয়া সম্পর্ক। ভিকটিম লায়লা বেগম ঘিওর চক্ষু হাসপাতালে আয়ার কাজ করত। উক্ত হাসপাতালে আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের মায়ের চক্ষু অপারেশন করার সময় ভিকটিমের সাথে পরিচয়। ভিকটিমের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভিকটিমের সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতো। এভাবে অনেক দিন চলতে থাকে। ২০১৬ সালে আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বিদেশ চলে যায়। ০৬ মাস পর আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশে ফেরত আসে। বাংলাদেশে আসার পর ভিকটিমের সাথে আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের আবার যোগাযোগ হয়। ভিকটিম সব সময় মোবাইলে কথা বলতো। আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন কারণ জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম জানায় বন্ধুদের সাথে কথা বলছে। এছাড়া ভিকটিম লায়লা বেগম নিজেকে বলাকা পত্রিকার সাংবাদিক বাবুর সহকারী হিসেবে পরিচয় দেয়। পরবতীর্তে আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন শুনতে/জানতে ও দেখতে পারে ভিকটিম লায়লা বেগম খারাপ কাজের (দেহ ব্যবসা) সাথে যুক্ত। ভিকটিমকে ভালো করার জন্য আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন সময়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা, সংসারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড় চোপড় এবং সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছে। ভিকটিম লায়লা বেগম কোন ভাবেই ভাল হচ্ছিল না। সে খারাপ কাজ করতেই থাকে। আসামী দেলোয়ার হোসেনের হাতে টাকা না থাকলে ভিকটিম লায়লা বেগম খারাপ কাজ (দেহ ব্যবসা) করে টাকা উপার্জন করে আসামীকে টাকা দিত। এলাকার দোকান থেকে আসামী দেলোয়ার হোসেনের নামে ভিকটিম লায়লা বেগম কাপড় চোপড়, সাবান ছোডা ইত্যাদি বাকিতে নিত। দোকান থেকে আসামী দেলোয়ার হোসেনকে হালখাতার দাওয়াত দেয়। গত ৫‌ মে তারিখ হালখাতার কার্ড পেয়ে আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি ভিকটিমকে জানায়। 

সর্বশেষ গত ৯‌মে ভিকটিম লায়লা বেগম দোকানদারের পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য রাতে দেলোয়ার হোসেনকে কাঠালতলা থাকতে বলে। দেলোয়ার হোসেন কাঠালতলা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে। অপর আসামী আব্দুর রাজ্জাক ভোটন এর অটো রিক্সায় ভিকটিম লায়লা বেগমসহ আরো ৩ জন পুরুষ লোক আসে। (ড্রাইভার আব্দুর রাজ্জাক ভোটন, ভিকটিম লায়লা বেগম ও আরো ৩ জন লোক)। ভিকটিম মোসাঃ লায়লা বেগম আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে নগদ ২ হাজার টাকা দেয়। ভিকটিমের নিকট অজ্ঞাত ৩ জন লোকের পরিচয় আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানতে চায়। ভিকটিম আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে জানায় তারা আব্দুর রাজ্জাক ভোটনের লোক। তারা ভিকটিমের সাথে খারাপ কাজ (শারীরিক সম্পর্ক) করবে। রাস্তা থেকে আসামীদ্বয়, ভিকটিম লায়লা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা ৩জন লোক চকের মধ্যে যায়। আসামী দেলোয়ার হোসেন এবং আব্দুর রাজ্জাক ভোটন দ্বয় থেকে ভিকটিম লায়লা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা ৩ জন লোক আরো কিছু দূরে যায়। গিয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ জন লোক ভিকটিমের সাথে খারাপ কাজ (শারীরিক সম্পর্ক) করে। খারাপ কাজ করার পর ভিকটিমের সাথে অজ্ঞাতনামা ৩ জন লোকের টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা হয়। ঝামেলা হওয়ার পর আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং আব্দুর রাজ্জাক ভোটনদ্বয় ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন ভিকটিমকে বলে তুই কাষ্টমারদের সাথে এরকম ব্যবহার করস কেন?। তারপর ভিকটিম লায়লা বেগম আসাম দেলোয়ার হোসেনকে থাপ্পড় মারে। থাপ্পড় মারার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামী দেলোয়ার হোসেন মাটিতে বিছানো ভিকটিমের ওড়না ও সালোয়ার দিয়া মুখ সহ গলায় প্যাচ মেরে টান দিয়ে গিট দেয়। লায়লা মাটিতে পড়ে যায়। আসামী দেলোয়ার হোসেন এবং আব্দুর রাজ্জাক ভোটনদ্বয় সহ অজ্ঞাতনামা ৩ জন লোক ভিকটিম লায়লা বেগমের মুখে, পেটে, হাত দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস চেক করে। কিন্তু ভিকটিমের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে আসামী দেলোয়ার হোসেন এবং আব্দুর রাজ্জাক ভোটন এবং অজ্ঞাতনামা ৩ জন লোক ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পুলিশ সুপার, এম, কে,  এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম, পিবিআই, মানিকগঞ্জ জানান, মামলার আসামী দেলোয়ার হোসেনের সাথে ভিকটিমের দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচয়। এরই সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকীয় সম্পর্ক তৈরি হয়। ভিকটিম মাঝে মধ্যে আসামী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে যেতো এবং একান্তে সময় কাটাতো। আসামী দেলোয়ার হোসেন বিদেশে গেলে উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর আসামী জানতে পারে  যে, ভিকটিম এলাকার বিভিন্ন মানুষের সাথে খারাপ কাজ (দেহ ব্যবসা) করে। উক্ত বিষয় জানার পর আসামী ভিকটিমের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনার দিনে সুযোগ পেয়ে ভিকটিমকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিঃ) মোঃ নাহিদ হাসান জানায়, অত্র মামলার আসামী দেলোয়ার হোসেনের সাথে ভিকটিমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে ভিকটিম খারাপ কাজের (দেহ ব্যবসা) সাথে জড়িয়ে যায়। ভিকটিমকে ভালো করার জন্য আসামী দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন সময়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা, সংসারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড় চোপড় এবং সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছে। ভিকটিম লায়লা বেগম কোন ভাবেই ভাল হচ্ছিল না। সে খারাপ কাজ করতেই থাকে। তখন আসামী দেলোয়ার হোসেন রাগে ও ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করে।

মন্তব্য (০)





image

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব পরিচয়দানকারী প্রতারক গ্রেফতার

মা‌নিকগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি: প্রধানমন্ত্রীর সহকারী...

image

রামিসার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান মাশরাফি সাকিব মুশফ...

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্য...

image

১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের...

image

৬ চীনা নাগ‌রিকসহ অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগে কয়েকটি ফ্ল্যাটে অভিযান...

image

৫ জনকে গলাকেটে হত্যা, মূল অভিযুক্তের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তিন শিশু ও মাসহ ৫ জনকে গলাক...

  • company_logo