নিউজ ডেস্কঃ হামের টিকা দেয়া শুরুর দেড় মাস শেষ হলেও কমছে না আক্রান্তের সংখ্যা। শুরুর দিকের হটস্পট রাজশাহীতে কিছুটা কমলেও এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকায় এ সংখ্যা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বরিশাল, সিলেট, খুলনাসহ অধিকাংশ বিভাগেই বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। আসন্ন ঈদুল আজহায় মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরে রোগী আরও বৃদ্ধির শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
কোনোভাবেই কমছে না হামের প্রকোপ। রাজধানীর হামের চিকিৎসা দেয় এমন হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিনই দেখা যায় রোগীদের দীর্ঘ সারি।
টিকাদান কর্মসূচি শুরুর দেড় মাসেও প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে হাজারের বেশি রোগী। ঢাকায় রোগী বৃদ্ধির হার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে রোগী বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। রোগী বেড়েছে বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেটেও। তবে শুরুর দিকের হাম হটস্পট রাজশাহীতে গত মাসের ১৭ তারিখ ৩০০ বেশি আক্রান্ত হলেও মে মাসে তা দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে।
এদিকে আসন্ন ঈদে সারাদেশে মানুষের চলাচল বৃদ্ধিতে রোগী আবারও বৃদ্ধি হতে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
শিশু সংক্রমণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের মধ্যে কিন্তু মানুষের মুভমেন্ট হয়েছিলো একটা এবং ঈদে এবার অনেক দিনের ছুটি ছিলো। তাই ঢাকার বাইরে থেকে যারা ঢাকায় আসলো ওরাও কিন্তু রোগ নিয়ে আসলো। এ যে একটা আসা-যাওয়া, এমনটা কিন্তু কোভিড-১৯ এর সময় হয়েছিলো। ঈদুল আজহাতে আরেকটু ভয় পাচ্ছি, যেহেতু ঢাকায় আপনার সংক্রমণের হারটা অনেক বেশি।’
রোগী বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয় ১২ এপ্রিল। প্রায় দেড় মাস হতে চললেও খুব বেশি একটা প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। সরকারের হিসেবে টিকা দানের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০ লাখের বিপরীতে টিকা দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ। তবে টিকা সফলতা পেতে পুষ্টি, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনসহ অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘শর্ট টার্ম ব্যবস্থাটা খুব খারাপ হয়নি, মোটামুটি হয়েছে। তার সঙ্গে যেগুলো অব্যবস্থাপনার ব্যাপার রয়েছে—হাসপাতালে অপ্রতুলতা, আইসিইউ’র অপ্রতুলতা, বাচ্চাদের আইসিইউ’র বিশেষ করে অপ্রতুলতা, জনবলের অভাব। এগুলো কিন্তু লং টার্ম এবং মিড টার্ম সলিউশনের মধ্যে যেতে হবে। আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে সদা যে, এ ইনফেকশন শুধু আজকে হাম না, কালকে আরেকটা ইনফেকশিয়াস ডিজিজ আসতে পারে।’
তবে হাম ভাইরাসটির একটি মাত্র সেরোটাইপ থাকায় টিকার কার্যকারিতা যে-কোনো টিকার চেয়ে বেশি। ফলে টিকার ফলাফল পেতে কিছুটা সময় লাগলেও অতিরিক্ত মানুষের ভিড়, সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হতে পারে।
বিএমইউ’র ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন গ্রামে বা শহরে বা পাড়া-মহল্লায় যারা ভ্যাকসিন পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা থাকবে। আমরা, যারা সাধারণ জনগোষ্ঠী, যারা আগে থেকেই আমরা ভ্যাকসিন পেয়েছি, তাদের ক্ষেত্রে, কিন্তু ঝুঁকিটা অনেক ক্ষেত্রে কম এবং নাই বললেই চলে। মিজলস ভাইরাসের ক্ষেত্রে একটা সুবিধা হচ্ছে যে, এটার একটাই সেরোটাইপ। সুতরাং যে ভ্যাকসিন আমরা দিচ্ছি, সে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এ ভাইরাসের এগেইনস্টে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা, টিকার যে লক্ষ্যমাত্রা, সেটা অর্জন করা খুব একটা কঠিন হবে না।’
তবে, আগামী এক মাসের মধ্যে হামের সংক্রমণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য (০)