• লিড নিউজ
  • জাতীয়

‎বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎

  • Lead News
  • জাতীয়

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

‎তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে, উন্নয়নশীল দেশগুলো গুরুতর অর্থনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।

‎সম্প্রতি আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামের পার্শ্বে এডিএফ টকসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি বাজারে বর্তমান অস্থিরতা অমীমাংসিত থাকলে, এর পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেলের ধাক্কার চেয়েও বড় ধরনের হতে পারে।

‎তিনি আরও বলেন, আগের তেলের ধাক্কার পর ১৯৮০-এর দশকে নবীন রাষ্ট্র ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই না।

‎মন্ত্রী আরও বলেন, নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তেল, এলপিজি ও সার সরবরাহের ওঠানামার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে, যেহেতু দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে পরিচালিত আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

‎নৌপরিবহন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত সমুদ্রপথ খোলা রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সামুদ্রিক রুট দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

‎ড. খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে, তা বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে বর্তমান রোপণ মৌসুমে, যখন ডিজেল ও সারের চাহিদা বেশি, তখন এই প্রভাব পড়তে পারে।

‎বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়, জ্বালানি রেশনিং এবং অফিস ও প্রাতিষ্ঠানিক সময়সূচিতে সমন্বয়সহ বিচক্ষণ পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎দেশীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ছিল এবং জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা উদ্‌যাপন করেছে।

‎ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী কর্মসূচি চালু করেছে।

‎ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

‎‘বাংলাদেশ ফার্স্ট মানে, বাংলাদেশ একা নয়,’ জানিয়ে তিনি বলেন, এই নীতির ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পারস্পরিক সম্মান।

‎জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত হলে, জাতিসংঘে তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, তাকে প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম করবে।

‎ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবেন এবং তার কর্মসূচির কেন্দ্রে বৈশ্বিক দক্ষিণ, ছোট রাষ্ট্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উদ্বেগকে রাখবেন।

‎ড. খলিলুর রহমান আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামকে সংলাপের একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রশংসা করে জানান, সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo