• লাইফস্টাইল

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে যেভাবে সহজেই মুক্তি মিলবে, জানালেন তাসনিম জারা

  • লাইফস্টাইল

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগে কষ্ট— এ সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ মনে করলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে পাইলস বা ফিশারের মতো জটিল রোগে রূপ নিতে পারে। 

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা।  এ ছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও জানান তিনি।

ডা. জারা বলেন, অনেক সময় পায়খানা খুব শক্ত হয়ে গেলে মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং পায়ুপথে ফাটল (ফিশার) দেখা দিতে পারে। এতে রোগীরা ‘ছুরির ধারার মতো’ ব্যথা অনুভব করেন। এ অবস্থায় জোর করে মলত্যাগ করা বিপজ্জনক হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এমন জরুরি অবস্থার জন্য গ্লিসারিন সাপোজিটরি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।  এটি সাধারণত ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ হিসেবে ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।  তার মতে- সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি ১৫ মিনিটের মধ্যে মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে।  ব্যবহার পদ্ধতি হিসেবে তিনি জানান, এটি সামান্য পানিতে ভিজিয়ে বাম কাতে শুয়ে পায়খানার রাস্তায় প্রবেশ করাতে হয় এবং অন্তত ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।

তবে এটি কাজ না করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতির জন্য, নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে তিনটি প্রধান ন্যাচারাল উপায় তুলে ধরেন তিনি।  এগুলো হলো- হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ। 

তিনি জানান, আমাদের মুখ থেকে পায়খানার রাস্তা পর্যন্ত যে নালিটি আছে, সেটা সোজা করে টানলে প্রায় ৩০ ফুট লম্বা হয়। আমরা সাধারণত ৫–৬ ফুট লম্বা। তার মানে এ নালিটি আমাদের থেকেও ৫–৬ গুণ লম্বা।  এ লম্বা নালির ভেতর খাবার থেকে মল প্রসেস হয়ে বের হওয়ার জন্য হাঁটাচলা সাহায্য করে।  তাই ন্যাচারাল উপায়ের প্রথম স্টেপ হলো হাঁটাচলা করা। কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করবেন—এতে শরীরের নানাভাবে উপকার হবে।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি না খেলে মল শক্ত হয়ে যায়, তাই হাইড্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি পূরণে ইসবগুলের ভুসি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।  এটি দিনে দুইবার ভরাপেটে গ্রহণ করতে এবং সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলা হয়। তবে তিন দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওষুধের ক্ষেত্রে ল্যাকটুলোজ এবং সোনাপাতা (সেনা) ব্যবহারের কথা বলেন তিনি।  ল্যাকটুলোজ সাধারণত অন্ত্রে পানি টেনে এনে মল নরম করে এবং দুই দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারে।  অন্যদিকে সেনা দ্রুত কার্যকর একটি ল্যাক্সেটিভ, যা ৮–১২ ঘণ্টার মধ্যে কাজ করতে পারে।

তবে এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। 

সবশেষে ডা. জারা বলেন, কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ব্যথা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ অনেক সময় পাইলস বা ফিশারের মতো রোগ এর পেছনে থাকতে পারে।

মন্তব্য (০)





image

বেড়েছে বজ্রপাত, নিজেকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ বর্ষা মানেই বজ্রপাতের উঁকিঝুঁকি। প্রক...

image

থ্যালাসেমিয়া: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি, প্রতিরোধে...

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্...

image

বৈশাখে বাড়িতে অতিথি, আপ্যায়ন করুন আম ও দইয়ের লাচ্ছি দিয়ে

নিউজ ডেস্ক : বৈশাখে বৃষ্টির বদলে শুরু হয়েছে কাঠ ফাটা রোদ। এই...

image

এবার আরও স্বল্পমূল্যের এআই মডেল উন্মোচন করল ডিপসিক

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক : চীনের স্টার্টআপ ডিপসিক শুক্রবার নতুন একটি কৃত্রিম...

image

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব সবজি!

লাইফস্টাইল ডেস্ক: তীব্র গরমে হাঁপিয়ে উঠছে জনজীবন। বাইরে...

  • company_logo