• লিড নিউজ
  • জাতীয়

বিশ্বশান্তি কামনা, নির্ভয় সমাজের প্রত্যাশা ছায়ানটের বর্ষবরণে

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনার বটমূলে বর্ষবরণের আয়োজনে ছায়ানট এমন স্বপ্নের মাতৃভূমির কথা বলেছে, যেখানে— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির/ জ্ঞান যেথা মুক্ত, গৃহের প্রাচীর’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ভীক সমাজের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের অনুষ্ঠানের এই প্রতিপাদ্য।

‎ছায়ানট সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বললেন, মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি। শুনতে চাই সমাজের অভয়বাণী— যেন সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারে; সকলে যেন নির্ভয়ে গাইতে পারি; যেন সংস্কৃতির সকল প্রকাশ নির্বিঘ্ন হয়— বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবন-যাপন করে।

‎এ সময় তিনি আরও বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালি-সংস্কৃতি তথা জাতিসত্তা উন্মোচনের এক বিশেষ দিন। বিগত প্রায় ছয় দশকের মতো এই দিনটিতে আমরা সকল গ্লানি জরা মুছে ফিরে দেখি, ফেলে আসা বছরকে। গত বছরেও রমনায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে নববর্ষের অনুষ্ঠান। ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে হলো বিজয় দিবসের আয়োজন। তার দু’দিন পরেই, গভীর রাতে, ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে ভাঙা হারমোনিয়াম-তবলা-তানপুরা এবং নালন্দার ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন শিশু-পুস্তকের দুঃসহ স্মৃতি। সেই রাতেই অগ্নিসংযোগ করা হয় দুই শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে। পরদিন আক্রান্ত উদীচী। এই সহিংস ঘটনাবলির কদিন আগেই, অপদস্থ হয়েছেন বাউল শিল্পীরা। স্মরণে জেগে ওঠে, এই বটমূলে ২০০১ সালের ভয়াবহ অঘটন।

‎রমনার বটমূলে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। ছায়ানটের এ অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে আটটি ছিল সম্মেলক সংগীত এবং ১৪টি একক গান ও আবৃত্তি।

‎ছাত্র, শিক্ষক এবং জ্যেষ্ঠ শিল্পীসহ প্রায় ২০০ জন শিল্পী দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখেই হয়েছে। সুরের মূর্ছনা আর কথামালায় নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। করোনা মহামারির সময় ভার্চুয়ালি করা হয় এ আয়োজন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo