• সমগ্র বাংলা

পাবনায় যৌন হয়রানির ক্ষোভে পরিকল্পিত হত্যা; দাদি-নাতনি জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে নিহত কিশোরী জামিলা আক্তারের চাচা।

ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ স্বীকার করেছে, পূর্বে যৌন হয়রানির চেষ্টায় বাধা ও অপমানের ক্ষোভ থেকেই সে সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) হত্যা করে। 

গ্রেপ্তার শরীফ ও নিহতরা হলেন, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মামলার সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের তাগিদে প্রায়ই ঢাকার সাভারে অবস্থান করতেন। জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গেই গ্রামে বসবাস করতো। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজার পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে জামিলাদের বাড়িতে যায়। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এতে কিশোরী প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে চড় মারলে শরীফ অপমানিত হয়ে ফিরে যায়।

এর কয়েকদিন পর, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শরীফ পুনরায় বাড়িতে গিয়ে পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়। কিন্তু সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করলে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার করতে থাকেন।

পরে শরীফ একটি হাতুড়ি দিয়ে জামিলার মাথা ও কপালে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যায়। মাঝপথে পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর বাঁশের গোড়ালি দিয়ে মাথায় আঘাত এবং গলা টিপে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ সরিষাক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত লাশ ও পরে সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান ও ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি'র) ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাত ১০টার দিকে সন্দেহভাজন শরীফুল ইসলামকে আটক করা হয়। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

রোববার দুপুরে আটক শরীফকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিবি সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও বাঁশের গোড়ালি পুকুর থেকে উদ্ধার করেন।

দাদি-নাতনির এ নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় ঈশ্বরদীসহ সারাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য (০)





image

মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, প্রধান আস...

মা‌নিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঙ্গা ...

image

আত্মগোপনে থেকে টানা ১৫ মাস বেতন তুললেন মাদরাসা সুপার

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাস...

image

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে দুই মাদ্রাসা শিশুর মৃত্যু

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোস...

image

অবশেষে চাটমোহরের কৃষকদলের বহিষ্কৃত নেতা মমিন জেল হাজতে

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নট...

image

শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে শিক্ষার্থী সংকটে

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সদরের অদূরে অবস্থিত এ...

  • company_logo