• সমগ্র বাংলা

৯ম,পে-স্কেল ও স্থায়ীকরণের দাবিতে রংপুরে রেললাইনে অবস্থান

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরো: ন্যায্য মজুরি, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও স্থায়ীকরণের দাবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অস্থায়ী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা রংপুরে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। দাবি আদায়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনে প্রায় আধাঘণ্টা ট্রেন আটকে রেখে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।এতে রেলওয়ের বিভিন্ন শাখার ওয়েম্যান, গেটম্যান, স্টেশন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীসহ বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক অংশ নেন।কর্মসূচির ফলে ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওয়েম্যান মোঃ আবু তালেব, মোঃ মাসুদ রানা, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মোঃ নুরুন্নবী ইসলাম এবং মোঃ হোসনে মোবারক।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রেল চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও আজও তারা ন্যায্য বেতন, স্থায়ীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও উদাসীনতা শ্রমিকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সমাবেশে মোঃ আবু তালেব বলেন,“ওয়েম্যানদের কাজ সরাসরি রেললাইনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। সামান্য ভুলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পরও আমরা বছরের পর বছর অস্থায়ী পরিচয়ে কাজ করছি। ন্যায্য মজুরি ও স্থায়ীকরণ আমাদের অধিকার-এটি কোনো দয়া নয়।”

তিনি অবিলম্বে সকল যোগ্য অস্থায়ী কর্মচারীকে স্থায়ী করার পাশাপাশি ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানান।

মোঃ মাসুদ রানা বলেন,“বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আমাদের বেতন দিয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর কাজ করেও আমরা একই জায়গায় আটকে আছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে আমাদের আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মোঃ নুরুন্নবী ইসলাম বলেন, রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত। এই খাতের কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে তার সরাসরি প্রভাব সেবার মান ও নিরাপত্তার ওপর পড়বে। তিনি বলেন, “কর্মচারীরা ভালো থাকলে সেবাও ভালো হবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।”

অপরদিকে মোঃ হোসনে মোবারক বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা সংঘাত চাই না। সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিয়েও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।”

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে তারা বাধ্য হবেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং রেলওয়ের অস্থায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।

মন্তব্য (১)





image
image

শেষ মুহূর্তে থামল দুই বাল্যবিয়ে, প্রশাসনের অভিযানে বদলে গ...

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে একই দিনে দুই কিশোরীর...

image

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ...

image

মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, প্রধান আস...

মা‌নিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঙ্গা ...

image

আত্মগোপনে থেকে টানা ১৫ মাস বেতন তুললেন মাদরাসা সুপার

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাস...

image

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে দুই মাদ্রাসা শিশুর মৃত্যু

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোস...

  • company_logo