• লিড নিউজ
  • আন্তর্জাতিক

ইরানে কি ট্রাম্পের ‘ভেনেজুয়েলা কৌশল’ কাজে আসবে?

  • Lead News
  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় হামলার পর থেকেই একাধিক দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের হুমকি বেড়েছে। একই চাপে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানও। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে সেই ভয় আরও তীব্র হচ্ছে। 

আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে-এবার কি ‘ভেনেজুয়েলা কৌশলে’ ইরানেও আগ্রাসন চালাবে যুক্তরাষ্ট্র? তবে বিশ্লেষকরা বলছেন-এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা, তেহরান কারাকাস নয়। সামরিক শক্তি, বহির্বিশ্বে মিত্রতা, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও একাধিক কারণে ইরানের শক্তি ভেনেজুয়েলার চেয়ে অনেকটা বেশি। আল-জাজিরা। 

শক্তিশালী সামরিক অবকাঠামো: ভেনেজুয়েলায় যেভাবে সামরিক অভিযান সম্ভব হয়েছিল, সেই বাস্তবতা দেখলেই বোঝা যায় ইরানে অনুরূপ হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কার্যত প্রশ্নের বাইরে। কারাকাসে অভিযান চালানোর আগে সিআইএ প্রায় ছয় মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থাটির কাছে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ একজন সোর্স ছিল, যিনি তাকে শনাক্ত করতে সহায়তা করেন। 

এই অভিযানের সাফল্যের বড় কারণ ছিল ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর বিশৃঙ্খলা এবং রাশিয়া ও চীনের মতো মিত্রদের কাছ থেকে মাদুরোর কোনো সহায়তা না পাওয়া। অন্যদিকে ইরানের রয়েছে অঞ্চলের বৃহত্তম সামরিক বাহিনী। সক্রিয় ও রিজার্ভ মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ সেনা। শুধু আইআরজিসিতেই অন্তত দেড় লাখ সদস্য রয়েছে। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধে অভিজ্ঞ। এর বাইরে রয়েছে বসিজ মিলিশিয়া, যাদের নিয়মিত ও রিজার্ভ সদস্য মিলিয়ে সংখ্যা কয়েক লাখ। 

এছাড়াও দেশটির রয়েছে আধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল, দীর্ঘপাল্লার ড্রোন, শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং অভিজ্ঞ স্থলবাহিনী। বিপরীতে ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা ছিল সীমিত এবং আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক নিরাপত্তায় তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।

হরমুজ প্রণালীতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়। ইরান চাইলে এই প্রণালী আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অচল করে দিতে পারে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ সংকট তৈরি করবে। ভেনেজুয়েলার এমন কোনো ভূ-কৌশলগত সুবিধা ছিল না। 

শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক: ইরানের সরাসরি ও পরোক্ষ মিত্র রয়েছে লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে। হিজবুল­াহসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরান-সমর্থিত বলে পরিচিত। ইরানে হামলা মানে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ: ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী না হলেও তার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ফলে এদিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: ইরানের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা এই দুই শক্তিধর দেশের সঙ্গে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এমন শক্তিশালী বৈশ্বিক সমর্থন ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা : ইরানে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মার্কিন সেনাদের বড় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করবে।

মার্কিন জনমত ও রাজনৈতিক চাপ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী জনমত আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প সরকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

মন্তব্য (০)





image

ইরানে মার্কিন অপারেশনের নাম ‘এপিক ফিউরি’ কেন, যা জানা গেল

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে যেকোনো অভিযানের নামকরণের ক্ষে...

image

‎শ্রীলঙ্কার উপকূলে ডুবেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ, অন্তত ৩০ নৌস...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে ভারত মহাসাগরে একট...

image

ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরা...

image

ইরানের হামলায় হতাহত ৬৫০ মার্কিন সেনা: আইআরজিসি

নিউজ ডেস্কঃ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে,...

image

ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭: রেড ক্রিসেন্ট

নিউজ ডেস্ক : ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাই...

  • company_logo