• লিড নিউজ
  • জাতীয়

দেশের পরবর্তী পুলিশ প্রধান হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সিএনআই

বিশেষ প্রতিবেদক: দুই দফা চাকরিচ্যুত, দীর্ঘ বঞ্চনা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান। অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং রাজনৈতিক চাপের মুখেও নিজ আদর্শে অবিচল থাকার কারণে তিনি পেয়েছেন ভিন্নধর্মী পরিচিতি। বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বাংলাদেশ পুলিশের পরবর্তী মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কে হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও পুলিশি অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে আসছে ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের নামও। দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা প্রতিকূলতা, চাকরিচ্যুতি, পুনর্বহাল এবং পদোন্নতির ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

জিল্লুর রহমানের কর্মজীবনের শুরুটা ছিল সামরিক বাহিনীতে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৯ সালে ২৩তম বিএমএ লং কোর্সে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট ক্যাডেট হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। দুই বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে বিএসসি ইন মিলিটারি সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়ে শুরু হয় তার পেশাগত পথচলা। আইন ও প্রশাসন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৬ সালে ঐতিহ্যবাহী লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

তবে তার পেশাগত জীবন কখনোই মসৃণ ছিল না। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিচ্যুত হন তিনি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০০২ সালে চাকরিতে পুনর্বহাল হন। এরপরও পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বঞ্চনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা যখন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তখন জিল্লুর রহমানকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক তাকে ঢাকার ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই সময়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, নৈতিকতা ও সাহসিকতা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বাহিনীর ভেতরে একটি নীতিনিষ্ঠ ও প্রতিবাদী বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন বলেও জানা যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। দ্বিতীয়বারের মতো চাকরিচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। তবে দেশের বাইরে থেকেও থেমে থাকেননি তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন আলোচনা ও বিভিন্ন টকশোর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

বিশেষ করে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী মত দমন, মিথ্যা মামলা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে তার বক্তব্য আলোচনায় আসে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়েও আইনি বিশ্লেষণভিত্তিক মতামত দেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ জুন কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পরও তিনি এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার তাকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করে। এরপর তার কর্মজীবনে আসে নতুন অধ্যায়। এসপি পদে থাকা অবস্থায় চাকরি হারানো এই কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের পর সরাসরি ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দুই দফা চাকরি হারানো, দীর্ঘদিন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকা এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে ফিরে আসা—সব মিলিয়ে ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের কর্মজীবন পুলিশের প্রশাসনিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

নিজের আদর্শ ও পেশাগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিআইজি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় সেই নৈতিক বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। পুলিশে যোগ দেওয়ার পরও তিনি নিজের আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি। আর আপসহীন অবস্থানের কারণেই একাধিকবার চাকরি হারাতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর পুনরায় চাকরিতে ফিরতে পেরে সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার যে দায়িত্বই অর্পণ করুক না কেন, তা যথাযথভাবে পালনে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এখন প্রশ্ন, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নেতৃত্বের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে? সেই আলোচনায় ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের নাম কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল কর্মজীবনের কারণে পুলিশের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় তার উপস্থিতি ইতোমধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

মন্তব্য (০)





image

বড়দিনের জন্য চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা অনুদান, প্রধানমন্ত্...

১

নিউজ ডেস্ক : খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ...

image

শ্রমিক সেজে উসকানি দিলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিআইজি মুস্তাফিজুর

২

নিউজ ডেস্ক :  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্য...

image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ ক...

৩

নিউজ ডেস্ক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে...

image

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বা...

৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পা...

image

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

৫

নিউজ ডেস্ক : স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহা...

  • company_logo