ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী ও প্রহসন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান ও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে তিনি গণভোটের রায় মেনে অবিলম্বে স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সভায় ডাকসু ভিপি হিসেবে সাদিক কায়েমকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি ও ডাকসু এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহস্রাধিক শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার; নামমাত্র কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য এই অভ্যুত্থান হয়নি। সংবিধান সংশোধন আর সংস্কার কোনোভাবেই এক বিষয় নয়। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংবিধান সংশোধন করতে পারলেও বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন কোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।’
অতীতের বিভিন্ন সংশোধনীর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, পঞ্চম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে বাতিল হয়েছিল। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে সংসদের সংশোধনী ক্ষমতা কতটা সীমিত।
জুলাই সনদের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘জুলাই সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পরিবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে সরাসরি স্পর্শ করে। ফলে কেবল ১৪২ অনুচ্ছেদের সংশোধনী দিয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ ও বাতিলের গুরুতর ঝুঁকি থাকবে। জেনেবুঝে জুলাই সনদকে এমন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি সরকারের উদ্যোগকে সমালোচনা করে বলেন, সংস্কারকে সংসদীয় সংশোধনের সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করার প্রক্রিয়া জনগণের বৃহত্তর সংস্কার আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করছে। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে জাতির সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা এবং নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোটের ফলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে দেশের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন। এই গণরায়কে উপেক্ষা করে কোনো প্রহসনমূলক উদ্যোগে ডাকসু সম্পৃক্ত থাকবে না।
তিনি দলীয় ও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ পরিহার করে গণভোটের ফল অনুযায়ী জুলাই সনদের আলোকে অবিলম্বে একটি ‘স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
নিউজ ডেস্কঃ গার্মেন্টস খাত অস্থিতিশীল করতে নিষিদ্...
নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জর...
নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীর কদমতলী থানার মাতুয়াইল ম...
নিউজ ডেস্কঃ ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্...
নিউজ ডেস্কঃ বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামা...

মন্তব্য (০)