• লিড নিউজ
  • জাতীয়

‎প্রকাশ্যে এলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

‎নিউজ ডেস্কঃ সামনে এসেছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত । চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনো একটির ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
‎
‎আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা করবে অন্য দুই দেশ। সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অস্ত্র ও জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৬টি অনুচ্ছেদে বিভিন্ন শর্ত ও বিধান রাখা হয়েছে
‎মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ তথা নথি দেশটির পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে তুরস্ক সরকার।
‎
‎চলতি বছরের ৭ আগস্ট শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চুক্তির নথি পার্লামেন্টে জমা দেওয়া হয়।
‎
‎আগস্টে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তোলে। এতে এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রাখা হয়েছে। ন্যাটো জোটের চুক্তির পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।
‎
‎মিডল ইস্ট আই একান্তভাবে চুক্তির যে নথি পেয়েছে, তাতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কোনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্যদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকির মুখে পড়লে সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে সদস্যদেশগুলো প্রয়োজনীয় সব উপায় অবলম্বন করবে।
‎
‎দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর কোনো একটির ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
‎
‎এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো সদস্যদেশ অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে বাকি সদস্যদেশগুলো অবিলম্বে আক্রান্ত দেশটিকে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার জন্য তাদের হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগানো হবে।
‎
‎চুক্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সহায়তার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের ভিত্তিতে সহযোগিতার ধরন ও পরিধি নির্ধারণ করবে সদস্যদেশগুলো। সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ নিজেদের হাতে থাকা সম্পদের সীমার মধ্যে থেকে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে।
‎
‎এ ছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্যও একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
‎
‎১৬টি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত এই চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নেই। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পার হওয়ার পর কোনো সদস্যদেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে। তবে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা অন্য সদস্যদেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
‎
‎এই চুক্তির পক্ষগুলো হলো তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জাতিসংঘ সনদের নীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ আইনের প্রাসঙ্গিক নীতিগুলো বিবেচনায় নিয়ে এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও একীভূতকরণের ব্যবস্থাগুলোকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় আনার বিষয়ে সম্মত হয়ে;
‎
‎সশস্ত্র বাহিনীগুলোর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা, প্রস্তুতি ও দক্ষতা বাড়াতে সহযোগিতা, সমন্বয় ও একীভূতকরণের ভিত্তিতে নিজেদের অভিন্ন স্বার্থ অনুযায়ী সম্পর্ক আরও উন্নত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং এর মাধ্যমে পক্ষসমূহ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে;
‎
‎একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তার নীতির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকে অপরিহার্য বলে ঘোষণা করে;
‎
‎আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে;
‎
‎সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পক্ষসমূহের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে;
‎
‎আন্তর্জাতিক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে পক্ষসমূহের বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে;
‎
‎পক্ষসমূহের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে;
‎
‎নিম্নলিখিত বিষয়ে সম্মত হয়েছে:
‎
‎অনুচ্ছেদ ১
‎
‎চুক্তির পক্ষসমূহ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত রাখতে সহযোগিতা করবে।
‎
‎কোনো পক্ষের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকির মুখে পড়লে বা বিপন্ন হলে সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে পক্ষসমূহ প্রয়োজনীয় সব উপায় অবলম্বন করবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ২
‎
‎পক্ষসমূহের যেকোনো একটির ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
‎
‎কোনো পক্ষ অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে বাকি পক্ষগুলো অবিলম্বে আক্রান্ত পক্ষকে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে তারা একে অপরকে যে ধরনের পারস্পরিক সহায়তা দিতে সক্ষম, তার সব উপায় কাজে লাগাবে।
‎
‎জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের ভিত্তিতে সহায়তার ধরন ও পরিধি নির্ধারণ করবে পক্ষসমূহ। সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ নিজেদের হাতে থাকা সম্পদের সীমার মধ্যে থেকে তারা পারস্পরিক সহযোগিতা করবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ৩
‎
‎এই চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পক্ষসমূহ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করবে। তারা নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করবে এবং প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ৪
‎
‎আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিষয়ে পক্ষসমূহ নিয়মিত পরামর্শ করবে। নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও বিপদ দূর করতে অভিন্ন মূল্যায়নের ভিত্তিতে পৃথক ও যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা একে অপরকে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে সহায়তা করবে এবং সহযোগিতা করবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ৫
‎
‎আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে—এমন সব ধরনের ও সব রূপের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পক্ষসমূহ বিদ্যমান সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ জোরদার করবে। এ ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনার পর্যায়েও সহযোগিতা করা হবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ৬
‎
‎যুদ্ধ ও শান্তিকাল—উভয় সময়েই পক্ষসমূহ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক জনবল বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও মহড়া এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে মোতায়েন ও অন্যান্য কার্যক্রম উৎসাহিত করবে। এর উদ্দেশ্য হলো তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করা।
‎
‎অনুচ্ছেদ ৭
‎
‎প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পক্ষসমূহ প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সহায়তা করবে। এ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো হলো—
‎
‎ক) প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদন উৎসাহিত করা;
‎
‎খ) বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন—এমন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা;
‎
‎গ) যেকোনো পক্ষের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পক্ষসমূহের ভূখণ্ডে জনবল প্রশিক্ষণ এবং সামরিক শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা;
‎
‎ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রতিরক্ষাবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা;
‎
‎ঙ) পক্ষসমূহের পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র।
‎
‎অনুচ্ছেদ ৮
‎
‎মূল পক্ষসমূহ ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এই কমিটিতে পক্ষসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানেরা থাকবেন। যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেয়া, পক্ষসমূহের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উন্নত করা এবং এই চুক্তি বাস্তবায়নের সময় দেখা দেয়া বাধাগুলো মোকাবিলা করা হবে কমিটির কাজ।

‎কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। পালাক্রমে বিভিন্ন পক্ষ বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে পক্ষসমূহের নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারবেন।
‎
‎প্রয়োজন মনে করলে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

‎এই চুক্তিতে উল্লেখ করা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পক্ষসমূহের মধ্যে চুক্তি বা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করা হবে।

‎মূল পক্ষসমূহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই চুক্তিতে অন্য পক্ষের অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির।

‎কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটিকে সহায়তা করার জন্য সৌদি আরবে সদর দপ্তরসহ একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সচিবালয় সৌদি আরবের সঙ্গে সদর দপ্তরসংক্রান্ত একটি চুক্তি করবে। সচিবালয়ের কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি এবং নীতিমালা পরবর্তী সময়ে মূল পক্ষসমূহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করা হবে।

‎মূল পক্ষগুলোর মধ্যে পালাক্রমে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া একজন মহাসচিব সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন নাগরিক।

‎এই অনুচ্ছেদের কোনো বিধান পক্ষসমূহের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা কমিটিগুলোর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে না।

‎অনুচ্ছেদ ৯
‎
‎গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে পক্ষসমূহ পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে। এ সময় তথ্যের নিরাপত্তা, উপাত্তের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১০
‎
‎সরবরাহ ও পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় রসদ সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে এবং তা পারস্পরিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে পক্ষসমূহ শান্তিকাল, যুদ্ধকাল ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে একে অপরকে রসদ সহায়তা দেবে। এর মধ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১১
‎
‎আন্তর্জাতিক আইন এবং পক্ষসমূহের সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ আইন অক্ষুণ্ন রেখে এই চুক্তির বিধান বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে পক্ষসমূহ চুক্তিটিকে গ্রহণ করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও দেবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১২
‎
‎পক্ষসমূহ আগে যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তি করেছে, সেগুলো থেকে উদ্ভূত তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ওপর এই চুক্তি কোনো প্রভাব ফেলবে না।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১৩
‎
‎এই চুক্তির আওতায় পাওয়া গোপনীয় তথ্য ও নথির গোপনীয়তা পক্ষসমূহ বজায় রাখবে এবং নিজ নিজ দেশের আইন মেনে চলবে।

‎পক্ষসমূহের বাইরের কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে গোপনীয় তথ্য ও নথি বিনিময় করা যাবে না।

‎গোপনীয় তথ্য ও নথিতে প্রবেশাধিকার কেবল যাদের তা জানা প্রয়োজন, তাদের দেয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকতে হবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১৪
‎
‎এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে পক্ষসমূহের মধ্যে পরামর্শ ও আলোচনার মাধ্যমে তা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১৫
‎
‎মূল পক্ষসমূহের মধ্যে পরামর্শ এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই চুক্তি সংশোধন করা যাবে।
‎
‎অনুচ্ছেদ ১৬
‎
‎প্রতিটি পক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুযায়ী এই চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সচিবালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেয়ার তারিখ থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

‎এই চুক্তি অনির্দিষ্টকাল কার্যকর থাকবে।

‎চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পার হলে যেকোনো পক্ষ এটি থেকে সরে যেতে পারবে। সে ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অন্য পক্ষগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

‎এই চুক্তির অবসান বা কোনো পক্ষের চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার কারণে অবসান বা সরে যাওয়ার তারিখের আগে পক্ষসমূহের সম্মতিতে চলমান কোনো কার্যক্রম বা প্রকল্পের ওপর প্রভাব পড়বে না।

‎গোপনীয় তথ্য ও নথি সুরক্ষা এবং সেগুলো প্রকাশ ঠেকানোর বিষয়ে পক্ষসমূহের দায়িত্ব চুক্তির অবসান বা কোনো পক্ষের সরে যাওয়ার পরও বহাল থাকবে।
‎
‎এই চুক্তি তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় মূল তিনটি কপিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিটি ভাষার পাঠ সমানভাবে প্রামাণ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে বিভিন্ন ভাষার পাঠের ব্যাখ্যায় কোনো পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠ প্রাধান্য পাবে।

মন্তব্য (০)





image

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে গঠন হচ্ছে কমিটি, থাকছেন অধ্যক্ষ-প্রধান...

১

নিউজ ডেস্কঃ  বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ জারি করা ...

image

সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকা...

২

‎নিউজ ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণ প...

image

সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকা...

৩

নিউজ ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণ ...

image

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, ১ নভেম্বর থে...

৪

নিউজ ডেস্ক : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতক...

image

সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯৬৩ শিশু নিহত

৫

নিউজ ডেস্কঃ ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা...

  • company_logo