• তথ্য ও প্রযুক্তি

গবেষণা, Artificial Intelligence ও শিল্পখাতের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে শেষ হলো IEEE COMPAS 2026 ‎

  • তথ্য ও প্রযুক্তি

ছবিঃ সিএনআই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ Artificial Intelligence, সাইবার নিরাপত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, NLP, কম্পিউটার ভিশনসহ কম্পিউটিংয়ের বিভিন্ন উদীয়মান প্রযুক্তি, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন IEEE 3rd International Conference on Computing, Applications and Systems (COMPAS 2026) আজ শনিবার শেষ হয়েছে। IEEE Computer Society Bangladesh Chapter এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ আয়োজনে গত ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়।

‎সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে। সকালে তৃতীয় Keynote Session এবং পরবর্তী সময়ে চতুর্থ Keynote Session অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
‎বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় “Beyond AI Adoption: Redefining Teaching, Assessment and Research in Higher Education” শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের ড. এম জুলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম সোহেল রহমান, বিডিরেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌরিত এবং পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। আলোচনা সঞ্চালনা করেন সম্মেলনের অর্গানাইজিং চেয়ার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুন-অর-রশীদ।
‎প্যানেল আলোচনায় উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, গবেষণার সততা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামো, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
‎সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, IEEE বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, গবেষক ও অংশগ্রহণকারীরা।
‎সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আধুনিক কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
‎সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার প্রদান। গবেষণার মান ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনটি গবেষণাপত্রকে Best Paper Award প্রদান করা হয়। প্রথম সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে পরিচালিত গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্কবিষয়ক গবেষণাপত্র। দ্বিতীয় সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার অর্জন করে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার প্রবাদ-প্রবচনবিষয়ক গবেষণাপত্র। তৃতীয় সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার অর্জন করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) স্বল্পব্যয়ী পানির নিচের প্রযুক্তিবিষয়ক (Low-cost Underwater Technology) গবেষণাপত্র। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা গবেষণাপত্রের জন্য যথাক্রমে ৩৫ হাজার, ২৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মোট ৮০ হাজার টাকার এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মেলনে উপস্থাপিত উৎকৃষ্ট গবেষণাকর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
‎এবারের সম্মেলনে মোট ৬১৬টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ২১২টি গবেষণাপত্র গৃহীত হয়। গবেষণাপত্র গ্রহণের হার ছিল প্রায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সম্মেলনে Intelligent Systems, Natural Language Processing, Visual Computing, Data Analysis, Cyber-Physical and Edge Systems, Distributed Systems, Networks and Security এবং Quantum Computing-সহ কম্পিউটিংয়ের বিভিন্ন অগ্রসর ক্ষেত্রে গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
‎দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। Keynote Session, Technical Session, Industry Talk এবং Plenary Discussion-এর মাধ্যমে গবেষণার নতুন ধারণা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
‎২০২৪ ও ২০২৫ সালের আয়োজনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত COMPAS 2026 বাংলাদেশের কম্পিউটিং গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং গবেষণার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের সংযোগ শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গবেষণা সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময় বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা ও ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।

মন্তব্য (০)





image

‎এআই পডকাস্ট প্রযুক্তি নিতে হাক্সের সঙ্গে চুক্তি অ্যাপলের

১

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ব...

image

‎ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে নতুন যে নিষেধাজ্ঞা দিলো মেটা ‎

২

‎তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক যোগাযোগমাধ্...

image

‎এআইয়ের কথায় ভুলকে সত্যি ভাবছেন? নষ্ট হচ্ছে নিজের বিচারবু...

৩

‎তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্কঃ হয়ত আপনার নিজের কোনো ধারণা নিয়ে সং...

image

চ্যাটজিপিটিতে ভয়াবহ ‘ঝুঁকি’, কিশোরদের সতর্ক করল গবেষণা

৪

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক : নিরাপত্তাব্যবস্থা চা...

image

মানুষের মতো কাজ করবে গুগলের নতুন ভার্সন জেমিনি এআই

৫

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: কর্মক্ষেত্রের নানা কাজ সহজ করতে নতুন এআ...

  • company_logo