নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কেউ অবসরে রুবিকস কিউব মেলায়, কেউ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করে, কেউ দাবা খেলে কিংবা ছবি আঁকে। বয়সে সবাই প্রাথমিকের গণ্ডিতে, অথচ স্বপ্ন তাদের এমআইটিতে পড়া, বিজ্ঞানী কিংবা কার্ডিয়াক সার্জন হওয়া। এই ১৬ খুদে শিক্ষার্থীই এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
আগামী ২ থেকে ৭ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার দীপক শহরে বসছে আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (IMSO) এর ২৩ তম আসর। এবারের আসরের আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার ম্যাথমেটিকস এডুকেশন ক্লিনিক এবং দেশটির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ দলে গণিতে ৮ জন ও বিজ্ঞানে ৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
আজ রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির (এসপিএসবি) সভাপতি মুনির হাসান।
“গত বছর প্রথমবার অংশ নিয়েই আমাদের ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পদক জিতেছিল। এবার দল বড় হয়েছে, প্রস্তুতিও গভীর হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়েই গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পারলে, সেটিই একদিন দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।” — মুনির হাসান, সভাপতি, বিডিওএসএন ও এসপিএসবি।
৮০০ থেকে ১৬: দল গড়ার পথ
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তুলতে গত বছর যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিএমএসও)। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হলো এই প্রতিযোগিতা।
গত ৮ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে একযোগে জাতীয় পর্বে অংশ নেয় প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী। বিজয়ীদের নিয়ে ১১ থেকে ২০ আগস্ট চলে জাতীয় অনলাইন ক্যাম্প। এরপর ২১ ও ২২ আগস্ট গণিত ও বিজ্ঞানের দল নির্বাচনী পরীক্ষায় চূড়ান্ত হয় ১৬ জন।
নির্বাচিত দলের জন্য ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আয়োজন করা হয় আবাসিক প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প। সেখানে হাতে কলমে পরীক্ষাগার অনুশীলন আর সমস্যা সমাধানে দিন কেটেছে শিক্ষার্থীদের।
“ক্যাম্পে আমরা মুখস্থ নয়, ভাবতে শেখানোর ওপর জোর দিয়েছি। পরীক্ষাগারে নিজের হাতে এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে ওদের চোখে যে আগ্রহ দেখেছি, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।” মিম নাজ রহমান, বিজ্ঞান দলের মেন্টর।
স্বপ্ন আর প্রস্তুতি
দলের প্রত্যেক সদস্যই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য রোমাঞ্চিত, একই সাথে প্রথমবারের মতো বিশ্বের নানা দেশের সমবয়সীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও।
“প্রথমবার দেশের বাইরে গিয়ে অন্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে পরীক্ষা দেব। একটু ভয় লাগছে, কিন্তু আনন্দ তার চেয়ে অনেক বেশি। দেশের জন্য পদক আনতে চাই।” — তাহমিদ হাসান, বিজ্ঞান দলসন্তানের এই যাত্রায় গর্বিত অভিভাবকেরাও।
“ছোটবেলা থেকেই ও প্রশ্ন করতে ভালোবাসে। সেই কৌতূহল যে ওকে দেশের পতাকা হাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাবে, ভাবিনি। আয়োজকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।” — হুমায়ুন কবির, দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য রাইয়ান আফরাদ এর অভিভাবক।
IMSO সম্পর্কে
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (IMSO) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগে শুরু হওয়া এই অলিম্পিয়াড এখন প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে আয়োজিত হয়। এতে অংশ নিতে পারে ১৩ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা।
গত বছর মালয়েশিয়ার কেদাহে ২২তম আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই শতভাগ সাফল্য পায় বাংলাদেশ। দলের ১২ জনের সবাই পদক জেতে: ২টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জ।
বাংলাদেশ দলের সদস্য
গণিত দল
অরিজিৎ সাহা (জাতীয় পর্বে গণিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, ষষ্ঠ শ্রেনী।
আলী ওমর (জাতীয় পর্বে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত, সেরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, ষষ্ঠ শ্রেনী।
মোঃ নাবি হোসেন (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল) ষষ্ঠ শ্রেনী।
ইহান আবরাদ রহমান (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল) ষষ্ঠ শ্রেনী।
মোঃ সামিন সাইফ (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল) ষষ্ঠ শ্রেনী।
শারাফ বিন আনোয়ার (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল) ষষ্ঠ শ্রেনী।
মোঃ শাহিদ মোরসালিন (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল) ষষ্ঠ শ্রেনী।
ইরতিশ জায়েদ লিয়াম (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল) পঞ্চম শ্রেনী।
মন্তব্য (০)