• শিক্ষা

প্রো-ভিসি নেই আড়াই বছর, ট্রেজারার নিয়োগের পরও যোগদান নেই

  • শিক্ষা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশাসনিক পদ ঘিরে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা। প্রায় আড়াই বছর ধরে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) পদটি শূন্য। অন্যদিকে প্রায় দুই বছর ট্রেজারার পদ শূন্য থাকার পর গত জুলাইয়ে নতুন ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলেও এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে চার বছরের জন্য বেরোবির প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে পদটিতে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বেরোবি জাতীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেলেও দীর্ঘদিন ধরে উপ-উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ শূন্য রয়েছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও বেরোবিতে এ পদে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯-এর ১২(১) ধারায় বলা হয়েছে, আচার্য প্রয়োজনবোধে তাঁর নির্ধারিত শর্তে চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপককে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, উপ-উপাচার্য প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা, একাডেমিক কার্যক্রমের তদারকি, বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটির সমন্বয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ পদটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকায় এসব দায়িত্বের বড় অংশ উপাচার্য ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বেরোবির সর্বশেষ ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমদ ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই বছর পদটি শূন্য ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেরোবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো যোগদান করেননি।

যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার বলেন, “আমি তো যোগদানের জন্য প্রস্তুতই ছিলাম। তবে বিভিন্ন কারণে আমি যোগদান করতে পারছি না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা হয়তো সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।”

নতুন ট্রেজারারের যোগদান না করার কারণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। নিয়োগ পাওয়ার পরও কেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা বলছেন, উপ-উপাচার্য পদে দ্রুত যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ এবং নিয়োগ পাওয়া ট্রেজারারের দায়িত্ব গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি একাডেমিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।

দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে শূন্যতা থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেরোবির স্বাভাবিক গতি ও কার্যকর প্রশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত এ অনিশ্চয়তার অবসান প্রয়োজন।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা এবং নতুন ট্রেজারার নিয়োগের পরও যোগদান না করার বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন,“এ বিষয়টি আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি।তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারও তাঁরই।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সহযোগিতা করার সুযোগ থাকলে আমরা তা করব।”

মন্তব্য (০)





  • company_logo