নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু রাস্তা, সেতু, কারখানা কিংবা ভবন দিয়ে তৈরি হবে না। সেই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দেশের প্রতিটি শিশু তার পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থার বাইরে গিয়ে ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার সুযোগ পাচ্ছে কি না, তার ওপর।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও সফটওয়্যার প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে কাজের ধরন, তৈরি করছে নতুন পেশা। কিন্তু দেশের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু এখনো এসব সুযোগের বাইরে। তাদের মেধা আছে, শেখার আগ্রহ আছে, স্বপ্নও আছে। অনেক ক্ষেত্রে অভাব শুধু সুযোগের।
এই বাস্তবতায় শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এগিয়ে এসেছে Mutual Trust Bank PLC (MTB)।
ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) উদ্যোগের আওতায় Dreamers Academy-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে ২৪ জন সুবিধাবঞ্চিত স্কুলশিক্ষার্থীকে এক বছরব্যাপী কোডিং শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি কোডিং ক্লাস পরিচালনা করা নয়। শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে কাজে লাগবে।
এক বছর ধরে শিক্ষার্থীরা Dreamers Academy-এর নির্ধারিত কারিকুলাম অনুসরণ করে নিয়মিত ক্লাস করবে। থাকছে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান, অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত একাডেমিক সহায়তা। প্রতি তিন মাসে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করলে তারা সার্টিফিকেট পাবে।
২৪ জন শিক্ষার্থী হয়তো বড় কোনো সংখ্যা নয়। কিন্তু একটি শিশুর জন্য মানসম্মত প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা তার ভবিষ্যতের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সেই প্রভাব একটি পরিবার থেকে একটি কমিউনিটি, এমনকি বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ যখন ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বও বাড়ছে। কেবল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। প্রয়োজন এমন একটি প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তি বুঝবে, নতুন কিছু তৈরি করতে পারবে এবং পরিবর্তনশীল কর্মজগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।
তবে সুযোগের এই বিস্তার সবার জন্য সমান নয়। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অনেক শিশুর প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ নির্ধারণ করে দেয়। ফলে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল বিভাজন।
এই জায়গায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণাও এখন বদলাচ্ছে। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব তৈরি করে এমন উদ্যোগে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। শিক্ষা তার মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে প্রযুক্তি শিক্ষা একটি শিশুকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি তার সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিতে পারে।
MTB-এর এই উদ্যোগ সেই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তারই প্রতিফলন। এখানে সহায়তার লক্ষ্য শুধু বর্তমানের প্রয়োজন মেটানো নয়, বরং শিশুদের এমন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া, যা ভবিষ্যতে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
এই কাজে MTB-এর অংশীদার Dreamers Academy। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের জন্য প্রযুক্তি শিক্ষা সহজলভ্য করার কাজ করছে। অনলাইন ক্লাস, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং হাতে-কলমে শেখানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের কোডিং, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সঙ্গে পরিচিত করছে।
Dreamers Academy-এর কো-ফাউন্ডার শরীফ আহমেদ বলেন, “মেধা সবার মধ্যেই আছে, কিন্তু সুযোগ সবার সমান নয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার সুযোগ থাকা উচিত। শিশুদের মধ্যে বিনিয়োগ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। এই বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য আমরা Mutual Trust Bank PLC-এর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা একসঙ্গে এমন কিছু সুযোগ তৈরি করছি, যা হয়তো এই শিশুদের অনেকেই কখনো নিজেদের জন্য কল্পনা করেনি।”
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর শুধু সরকার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি, বেসরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব।
MTB এবং Dreamers Academy-এর এই উদ্যোগ সেই অংশীদারত্বের একটি উদাহরণ। এখানে কোডিং শেখানো হচ্ছে, তবে এর লক্ষ্য আরও বড়। শিক্ষার্থীরা শিখবে কীভাবে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হয়, কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হয় এবং কীভাবে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়।
একটি শিশুর জন্য একটি সুযোগ কখনো কখনো পুরো ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎও তাই শুধু নতুন প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হবে না। সেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে তখনই, যখন দেশের মেধাবী শিশুদের জন্য সুযোগের দরজাগুলো আরও বেশি করে খুলে দেওয়া যাবে।
মন্তব্য (০)