নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা না পাওয়া এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে অর্থ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে অবসর সুবিধার টাকা পেতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পাওনা অর্থ না পেয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এ পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
চাকরিকালে মূল বেতনের ৬ শতাংশ হারে জমা দেওয়া চাঁদার ভিত্তিতে অবসর সুবিধার অর্থ নির্ধারণ করা হয়। বোর্ডের হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
এই পর্যায়ের আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে।
কল্যাণ সুবিধার জন্য চাকরিকালে মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন।
এ পর্যায়ের আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
সব পাওনা একবারে মিলবে কি
বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট মিলিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আবেদন রয়েছে। সব আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
অর্থাৎ সরকারের দেওয়া ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দে বড় একটি অংশের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হলেও দীর্ঘদিনের পুরো জটিলতা একবারে শেষ হবে না। বাকি আবেদনকারীদের পাওনা পরিশোধে ভবিষ্যতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে।
কেন এতদিন আটকে ছিল
সংশ্লিষ্টরা জানান, অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থের বড় অংশই শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিকালে জমা দেওয়া চাঁদা থেকে আসে। অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর তহবিলে এবং ৩০ টাকা কল্যাণ তহবিলে জমা হয়।
তবে প্রতি মাসে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে, তা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তহবিলের আয় কম। ফলে প্রতি মাসেই অর্থের ঘাটতি তৈরি হয় এবং আবেদন জমতে থাকে।
অবসর সুবিধা বোর্ডের কর্মকর্তারা আরও জানান, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাইয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। ফলে অনেক আবেদন হাতে-কলমে যাচাই করতে হচ্ছে। এতে নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে।
১৫ আগস্ট থেকে শুরু কার্যক্রম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অবশিষ্ট আবেদনকারীরা তাদের পাওনা কবে পাবেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মন্তব্য (০)