নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের সদর উপজেলায় ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক রবিউল সিকদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে।
দুপুরের দিকে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নড়াইল জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘাতকের দ্রততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি)-র দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্ষুব্ধ জনতা ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) পড়ন্ত বিকেলে জান্নাতিকে নিজ নির্জন ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে পাশবিক নির্যাতন চালায় পেশায় রাজমিস্ত্রি রবিউল সিকদার। রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে। সে দুটি বিয়ে করলেও তার কোনো সংসার টেকেনি; বাড়িতে একাই বসবাস করত।
রবিউলের পাশবিক নির্যাতনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই অবুঝ শিশু জান্নাতির মৃত্যু হয়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে সে শিশুটির নিথর দেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও শিশু জান্নাতি ঘরে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জান্নাতির মা রবিউলের বাড়ির দিকে গিয়ে মেয়েকে ডাকাডাকি করতে থাকলে রবিউল তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে মায়ের সন্দেহ হলে ঘরে ঢুকে খাটের ওপর রক্তে ভেসে থাকা মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিরুপমা মল্লিক জানান: "ধর্ষণের কারণে শিশুটির গোপনাঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত ও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে আনার আগেই শরীর থেকে সমস্ত রক্ত ঝরে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।"
ঘটনার পরপরই নড়াইলের পুলিশ বিভাগ অপরাধীকে ধরতে মাঠে নামে। সোমবার রাতেই নিহত জান্নাতির বাবা মফিজুল শেখ বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার সকালে দত্তপাড়া এলাকা থেকে জনতা অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। দুপুরেই তাকে জেলা বিচারিক আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
অভিযুক্ত রবিউল গ্রেপ্তারের পরপরই বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নড়াইল। সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে নড়াইল-মাগুরা সড়ক অবরোধ করে।
বিক্ষোভের মুখে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিয়ে বলেন, "অপরাধীর সর্বোচ্চ ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে নড়াইল জেলা পুলিশ ও মামলার তদন্তকারী দল যাবতীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।" ডিআইজির আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে সড়ক ছাড়েন।
তবে দুপুরের পর নড়াইল-যশোর-ঢাকা মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী আবারো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার,জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামির দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার করলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য (০)