পবিপ্রবি প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে বড় পর্দার এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব মাহবুব নাহিদ এবং পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রাতুলের সৌজন্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন।
রোববার (২০ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল শহীদ জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদল।
এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ও পরিবহন কর্মকর্তা সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রহিম সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়া পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রাতুল বলেন, “এ আয়োজন বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতা ও সার্বিক সমর্থনের জন্য শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব মাহবুব নাহিদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দমুখর ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি বিকাশে পবিপ্রবি ছাত্রদল এমন গঠনমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।”
বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সুস্থ জীবনধারা এবং ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারও শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে পারে এবং নিজেকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। তাই শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি এমন আনন্দঘন আয়োজনও শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত ভাগাভাগি করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা উপভোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতা, পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
গভীর রাত হলেও বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ উপভোগ করতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর, প্রাণবন্ত ও মিলনমেলার পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য (০)