• লিড নিউজ
  • অপরাধ ও দুর্নীতি

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে স্মার্ট টেকনোলজির কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, অর্থপাচারের অভিযোগ জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে ‎

  • Lead News
  • অপরাধ ও দুর্নীতি

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ স্মার্ট টেকনোলজিস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

‎নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু করা স্মার্ট টেকনোলজিস সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত হয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও প্রবেশ করেছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামোর আড়ালে ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে স্টারসিড টেকনোলজি নামে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠন করেন দুই ভাই, যার প্রাথমিক মূলধন ছিল ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। উভয়ের সমান মালিকানাধীন এই কোম্পানি সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিঙ্গাপুরের সরকারি নথিতে কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধিত, যা অর্জনে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

‎দুবাইয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো জহিরুল ব্রাদার্সের নামে পরিচালিত। ২০০২ সালে নিবন্ধিত সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্টে জহিরুল ইসলামের শেয়ার ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের শেয়ার ৮৫ শতাংশ, এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আফ্রিকাসহ তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত। এর পাশাপাশি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এই প্রতিষ্ঠানেরও ব্যবসা একাধিক দেশে সম্প্রসারিত। মালিকানার এই অসম বণ্টন এবং একাধিক এখতিয়ারে একযোগে ব্যবসা পরিচালনার ধরন আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

‎এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করে যে জহিরুল ইসলাম বা তার কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে আয়কর নথিতেও এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি, যা বাংলাদেশের প্রচলিত কর আইনের পরিপন্থী বলে মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকরা। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জহিরুল ইসলাম কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি।

‎অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের মার্চ মাসে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে নির্ধারিত কর্মকর্তা পরবর্তীতে অবসরে চলে যাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন যে অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং পাশাপাশি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখা জরুরি। একজন তদন্ত কর্মকর্তার অবসর গ্রহণের কারণে কোটি কোটি টাকার অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকার ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য (০)





image

জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়ির সম্পদের তালিকা করছে দুদক

নিউজ ডেস্কঃ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসা...

image

‎জিয়াউল আহসানের জলসিড়ি বাড়িতে দুদকের অভিযান

নিউজ ডেস্কঃ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএ...

image

রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্কঃ রিজেন্ট গ্রুপের মালিক সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার করে...

image

‎সাইফুজ্জামানের বাসায় চলছে দুদকের দ্বিতীয় দিনের অভিযান

নিউজ ডেস্কঃ পলাতক সাবেক আওয়ামী সরকারের ভূমি মন্ত্রী সাই...

image

‎শাহজালাল বিমানবন্দরে ফলের ক্যারেট থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণের ...

নিউজ ডেস্কঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভি...

  • company_logo