• সমগ্র বাংলা

মুন্নির হাতের টিউমার অপারেশনে প্রয়োজন ২ লাখ টাকা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি : এক সময়ের প্রাণবন্ত ও মেধাবী স্কুলছাত্রী সানজিদা আক্তার মুন্নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রতিদিনের মতো সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যেতেন, স্বপ্ন দেখতেন উচ্চশিক্ষা অর্জনের। কিন্তু হঠাৎ এক অসুস্থতা তার জীবনকে পাল্টে দেয় চিরতরে। গত নয় বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী। সম্প্রতি ডান হাতে নতুন করে টিউমার দেখা দেওয়ায় তার চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বলছিলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জের জাংগালিয়া ইউনিয়নের নরুন গ্রামের বাসিন্দা বিশোর্ধ সানজিদা আক্তার মুন্নির কথা। সে ও গ্রামের অটোরিকসা চালক মোনতাজউদ্দিনের মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন মুন্নি। ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগলেও প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ অসুস্থতা বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হয়। বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

পরবর্তীতে স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিলে তার দুই পা অবশ হয়ে যায়। স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায় এবং একসময় বিছানাই হয়ে ওঠে তার স্থায়ী ঠিকানা। এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ নয় বছর।

সম্প্রতি তার ডান হাতে একটি টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টিউমার অপসারণে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু অর্থাভাবে সেই চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার।

মুন্নির স্কুলজীবনের বন্ধু আসিফ বলেন, “ছোটবেলা থেকে আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি, স্কুলে গিয়েছি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মুন্নি বিছানায় পড়ে আছে। আজ সে সুস্থ থাকলে হয়তো আমাদের সঙ্গে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

প্রতিবেশী কায়েজ জানান, “ছোটবেলা থেকে শুনেছি মুন্নি আপু আমাকে অনেক আদর করতেন। আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখছি। তাকে দেখলে খুব কষ্ট লাগে।”

আজমতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “মুন্নির বাবা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি উপার্জনের অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করেছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে একাধিকবার ভারতেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ফিরে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার ও মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন। প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা শুধু ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়।”

মুন্নির মা শাহনাজ পারভিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়ের চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি। আগে অন্তত উঠে বসতে পারত, এখন সেটাও পারে না। নতুন করে হাতে টিউমার হয়েছে। অর্থের অভাবে অপারেশন করাতে পারছি না।”

মুন্নির বাবা মোনতাজউদ্দিন বলেন, “বিদেশে থাকাকালে সংসার ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু একমাত্র মেয়ের অসুস্থতা আমাদের সবকিছু বদলে দিয়েছে। চিকিৎসার পেছনে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো নতুন করে চিকিৎসার সুযোগ পাবে মুন্নি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতাই হতে পারে তার সুস্থ জীবনে ফেরার শেষ আশার আলো। সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ ০১৮২০১৯৭২৬৮ ও বিকাশ (পার্সোনাল) ০১৮৭৮৭৩৫৪৯৬

মন্তব্য (০)





image

ফরিদপুরে পারিবারিক বিরোধ: ব্লেডের আঘাতে স্বামী জখম, হাসপা...

ফরিদপুর প্রতিনিধি: পারিবারিক কলহের জেরে ফরিদপুরের মধুখালীতে ...

image

কালীগঞ্জে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মুদি দোকানি গ্ৰেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছর বয়স...

image

ফরিদপুরের মধুখালীতে সরকারি খাল দখলমুক্ত: ৪০ বছরের অবৈধ স্...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের মধুখালীতে সরকারি খালের ওপর গড়ে...

image

পাবনায় মাদকের টাকা না পেয়ে কোরআনে আগুন, গণপিটুনি দিয়ে পু...

পাবনা প্রতিনিধি : মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর এ...

image

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের চালে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যুবক নিহত...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের টিনের চ...

  • company_logo