কক্সবাজার প্রতিনিধি : টেকনাফের নাফ নদীতে একটি নৌকায় গুলিবর্ষণ করেছে একটি সশস্ত্র গ্রুপ। প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে শত শত লোকজন। এই ঘটনায় উপজেলার হ্নীলা বিজিবি বিওপি সন্নিকটে বেরিবাঁধে ঘুরতে যাওয়া লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা সুইচপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতেনিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
৬৪ বিজিবি উখিয়া ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লে, কর্নেল জহিরুল ইসলাম সংবাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক জানান, শনিবার বিকেলের দিকে আমরা কয়েকজন মিলে হ্নীলা সুইচগেট সংলগ্ন সীমান্তের বেরিবাঁধে ঘুরছিলাম।
সেখানে আরও অনেক লোকজন ছিল।
এ সময় দেখি, মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তের দিক থেকে ইঞ্জিন বোটে করে সশস্ত্র একটি গ্রুপ নাফ নদীতে এসে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন জেলেকে ধাওয়া করে। পরে জেলেরা নদী থেকে পালিয়ে এপারের হ্নীলা সীমান্তে চলে আসার সময় তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়।
পরে সশস্ত্র গ্রুপটি জেলেদের ফেলে রাখা নৌকা মিয়ানমার সীমান্তের দিকে গিয়ে ছেড়ে দেয়।
বিভিন্ন একাদিক সূত্রে জানা যায়, বিজিবি হৃীলা বিওপি এর দক্ষিণ অংশে চৌধুরী পাড়া পর্যন্ত অংশে জনৈক আবু তালেব গ্রুপ এবং বিওপি এর উত্তর অংশের ওয়াব্রাং পর্যন্ত অংশে জনৈক রেজাউল করিম কালু গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে মিয়ানমার কেন্দ্রিক মাদক ও পণ্য পাচার কাজে। এদের সীমান্ত অপরাধ গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাফনদীর মিয়ানমার অংশের দ্বীপ ক্ষেরের দিয়ায় (ঘাসের দ্বীপ) ঘাঁটি গেড়ে বসেছে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। এমন একটি গোষ্ঠীর প্রধান হচ্ছে রোহিঙ্গা কালাপুতু। খোঁজ নিয়ে জানা, হৃীলার আলোচিত মাদক সম্রট
বার্মায়া রফিক সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। এই সিন্ডিকেট এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে হ্নীলা স্লুুইস পাড়ার নুরুল মোস্তফার ছেলে রেজাউল করিম কালু। এই সিন্ডিকেট এর অপরাপর সদস্য হচ্ছে আবছার,হামিদ,সেলিম। গত কয়েকদিন ধরে ২ লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে ঢুকাতে চেষ্টা চালাচ্ছে কালু গ্রুপ। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সিমান্ত রক্ষী বিজিবি ও ক্ষেড়েরদিয়ার সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর কালা পুতু গ্রুপ। এই গ্রুপকে বাংলাদেশ অংশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করে আবু তালেব গং। শনিবার ৩০ মে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বিজিবি টহল দল পরিবর্তনের সময়ে নাফনদীর মিয়ানমার অংশ থেকে একটি নৌকা দুজন ব্যাক্তিসহ বাংলাদেশ অংশে আসতে থাকে।এ ফাঁকে কালাপুতু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা একটি ইন্ঞিন বোট নিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় অনুপ্রবেশ করে।কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। নৌকা ফেলে দুজন ব্যাক্তি কূলে উঠে যায় কিন্তু নৌকাটি মাঝনদীতে নিয়ে যায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা কয়েকটি বস্তা তাদের বোটে তুলে নেয়।পরে কাঠের নৌকা নদীর মধ্যে রেখে তাদের গন্তব্যে চলে যায়। আর এসব দৃশ্য প্রকাশ্যে দেখতে থাকে নাফনদী সীমানার সীমান্ত সড়কে বেড়াতে যাওয়া শত শত লোকজন।তারা অনেক এই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে লাইভও করেন। স্হানীয়রা ওই বস্তায় ইয়াবা রয়েছে বলে ধারণা করছেন।
এই ঘটনায় স্হানীয়দের মাঝে আতংকও ছড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাফনদীতে নৌকা থেকে বাংলাদেশের কূলে উঠে আসা দুই ব্যাক্তিকে হৃীলা বিওপি এর বিজিবি সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিতে দেখা গেছে এবং ভেসে নৌকাটিও পরবর্তী সময়ে বিজিবির তত্বাবধানে আনা হয়েছে।
এসব বিষয়ে এখনো ৬৪ বিজিবি উখিয়া ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লে, কর্নেল জহিরুল ইসলাম গভীর রাতে (সোয়া ১ টা) জানান,
৩০ মে (শনিবার) আনুমানিক পৌনে ৬ টার সময় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪বিজিবি) এর অধীনস্থ হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৩ হতে আনুমানিক ৬০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে, শূন্য লাইন হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাব্যিক চর নামক স্থান হতে ২ জন জেলেসহ ১টি নৌকা বিওপি হতে আনুমানিক ৫০০ গজ উত্তর দিকে সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ব্রীজের দিকে চলে যায়। পিছন থেকে ৩ জন রোহিঙ্গা ডাকাত দলের ১টি নৌকা তাদের ধাওয়া করে সূইচগেটের নিকট থামার জন্য বলে। জেলেদের নৌকাটি না থামায় রোহিঙ্গা ডাকাত দল ১ রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করার প্রেক্ষিতে ২ জন জেলে নৌকা হতে পানিতে ঝাপিয়ে পরে। উক্ত ফায়ারের শব্দ শুনে বিওপি হতে উপস্থিত টহল দল ঘটনাস্থলে এগিয়ে গিয়ে দেখে ডাকাত দলের নৌকাটি বেঁড়িবাধ হতে আনুমানিক ২০০ মিটার নাফ নদীর অভ্যন্তরে চলে যায় এবং ২ রোহিঙ্গা জেলেকে পানিতে থাকা অবস্থায় আটক করে।
আটককৃত রোহিঙ্গাদ্বয় হচ্ছে উখিয়া কুতুপালং ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২ নম্বর ব্লকের
জমির হোসেন এর ছেলে ইমাম হোসেন (২৫) ও কুতুপালং ৪ নং ক্যাম্পের ব্লক- বি এর মোঃ আলী জোহাত এর ছেলে মোঃ নুরুল আমিন (২৩)।
উল্লেখ্য, উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজিবি টহল দল তৎক্ষনাত ফায়ার হতে বিরত থাকে কারণ, উক্ত সময় বিজিবি ফায়ার করলে রোহিঙ্গা ডাকাত দলও প্রতি ফায়ার করত। ঈদ উপলক্ষ্যে ছুটি থাকায় প্রচুর দর্শণার্থী ওই সময়ে বেঁড়িবাধের উপর উপস্থিত ছিল ফলে ফায়ার সংঘটিত হলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। পরর্বতীতে ডাকাত দলের নৌকাটি সুলিশপাড়া হয়ে বিওপির সামনে দিয়ে চর কাব্যিক এর দিকে যাওয়ার পথে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে ৫ রাউন্ড ফায়ার করে। ফায়ার করার প্রেক্ষিতে ডাকাত দল চর কাব্যিকে পালিয়ে যায়।
এখানে উল্লেখ্য যে, উপস্থিত দর্শণার্থীরা বিজিবি সদস্যদের জানায় যে, আটককৃত রোহিঙ্গাদের নৌকা হতে ডাকাত দল জাল সাদৃশ্য কিছু বস্তু তাদের নৌকায় উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং নৌকাটি নাফ নদীর ১০০-১৫০ মিটার অভ্যন্তরে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে চলে যায়। ধারণা করা হয় আটকৃত রোহিঙ্গা দুইজন ইয়াবা আনার জন্য গিয়েছিল এবং অন্য একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল তা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফায়ার করে এবং ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আটককৃত রোহিঙ্গাদের থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান
মন্তব্য (০)