• লিড নিউজ
  • জাতীয়

নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা বাজারে গরিবের শুধুই দীর্ঘশ্বাস

  • Lead News
  • জাতীয়

প্রতীকী ছবি

নিউজ ডেস্ক : নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে বাজারজুড়ে গরিবের শুধু দীর্ঘশ্বাসই উঠছে। মাছ-মাংস দূরে থাক, ডাল-ডিম দিয়ে একবেলা ভাত জোগাবে তারও যেন জো নেই। মিলারদের কারসাজিতে খুচরা বাজারে মোটা চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। সরু চালের দাম ঠেকেছে ৯০ টাকায়। ডজনপ্রতি ৪০-৪৫ টাকা বেড়ে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। আর প্রতিকেজি ডাল কিনতে খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা। হঠাৎ করেই কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। আর সাধ থাকলেও উচ্চ দামের কারণে কপালে জুটছে না মাছ-মাংস। এতে বাজারে গিয়ে চুপচাপ কাঁদছে খেটে খাওয়া মানুষ। টান পড়ছে সংসারের হাঁড়িতে।

শুক্রবার ছুটির দিন সকালে নয়াবাজারে ঢুকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন রিকশাচালক আব্দুল করিম। তিনি বলেন, হাতে থাকা ৫০০ টাকার নোটটার যেন এখন আর কোনো দামই নেই। এক কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, কয়েকটি ডিম আর সামান্য সবজি কিনতেই শেষ হয়ে যায় দিনের আয়। তিনি বলেন, বাজারে এসেছি আধা ঘণ্টা হয়েছে। কিন্তু কী রেখে কী কিনব বুঝতে পারছি না। যে টাকা আছে তা দিয়ে চাল, ডাল কিনতেই হবে। পরে টাকা থাকলে এক পদ সবজি কিনব। কিন্তু চালের দাম শুনেই হিমশিম খাচ্ছি। কয়েক মাস ধরেই দাম বাড়ছে। ডালের দাম ১৬০ টাকা কেজি। মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই। ডিম কিনে বাড়ি ফিরব, তারও উপায় নেই। সব মিলে আমাদের মতো গরিবের ডাল-ভাত ও ডিম জোগানো স্বপ্নের মতো লাগছে। এ কারণে মানসিক যন্ত্রণায় আছি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিবছর একই প্রক্রিয়ায় মূল্য কারসাজি করে ক্রেতাকে ঠকাচ্ছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি ভোক্তাকে স্বস্তিতে রাখতে তদারকি সংস্থাগুলোর কোনো গবেষণা নেই। নেই কোনো বাজার তদারকির পরিকল্পনা। ফলে বছরের পর বছর ধরে বাজারে ভোক্তার অস্বস্তি বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাই সরকারের উচিত হবে বাজারে নজর দেওয়া।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, কাওরান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজারসহ একাধিক খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। আর এই একই ডিম রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ১০-১৫ টাকা কম ছিল। আর এক মাস আগে ডজনপ্রতি ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে খুচরা বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে সাদা রঙের ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৮৩০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা।

এদিকে সবজির বাজারে নাজেহাল অবস্থা। ৮০ টাকা কেজির নিচে মিলছে না কোনো সবজি। একাধিক সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১০০ টাকার ওপরে। শুক্রবার প্রতিকেজি লম্বা বেগুন বিক্রি হয় ১০০ টাকায়। গোল বেগুন কিনতে গুনতে হয়েছে ১২০ টাকা। প্রতিকেজি শসা ১০০ টাকা, করোলা ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০-১১০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা ও কচুর লতি প্রতিকেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, চিচিঙা ১০০-১১০ টাকা, কাঁকরোল প্রতিকেজি ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিপিস লাউ ১০০ টাকা, ধন্দুল প্রতিকেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। পাইজাম চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকা এবং সরু চালের মধ্যে মিনিকেট ৮৫ ও নাজিরশাইল ৯০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আয়শা বেগম বলেন, আমার স্বামী রিকশা চালায়। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি। দুজন মিলে যে টাকা আয় করি তা দিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার চলে। বাজারে খাদ্যপণ্যের যে দাম দুজনের আয় দিয়ে আর ব্যয় সামলাতে পারছি না। কোনো পণ্যই কম দামে কিনতে পারছি না। কী রেখে কী কিনব তা ভাবছি। তিনি বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের কথা ভাবে না কেউ।

স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজির নিচে নেই কোনো মাছ। একাধিক মাছ ৩৫০-১০০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছুটির দিন প্রতিকেজি পাঙাশ বিক্রি হয় ২০০-২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩২০ টাকা, বাইন ৬০০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০-১১০০ টাকা, পাবদা ৩৫০, কই ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া মাছ ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা ও প্রতিকেজি টাকি মাছ ৪০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, বাজারে অভিযান থেমে নেই। প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কী কী কারণে পণ্যের দাম বেড়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অসাধু পন্থায় দাম বাড়ালে আইনের আওতায় এনে পণ্যের দাম সহনীয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo