নিউজ ডেস্কঃ অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা বিশ্বের ইতিহাসেই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার অভাব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুক্রবার রাজধানীর র্যাডিশন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে হামলার আগাম ঘোষণা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সেনাসদস্যরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব হামলার পর সমাজের কিছু পরিচিত ব্যক্তি, আইনজীবী, অ্যাক্টিভিস্ট এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ ঘটনাগুলোকে ‘উপভোগ’ করেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। গণমাধ্যমের ভেতর ও বাইরের সংকট নিয়ে সম্মেলনে গভীর আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত এক দশকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলায় ৬০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সাংবাদিক হত্যার পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, সুশাসন ও পেশাগত উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমআরডিআই’র নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান জানান, সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিজিটাল সংবাদকক্ষের রূপান্তর, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, তথ্যের ব্যবহার, লিঙ্গসমতা, অন্তর্ভুক্তি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে গণমাধ্যমের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনে ৬১ জন সাংবাদিক ফেলোশিপ অর্জন করেছেন। তারা তাদের অনুসন্ধানী সংবাদের ধারণা ও গবেষণাকর্মও উপস্থাপন করবেন। এছাড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য অধিকার, তথ্য যাচাই ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বিষয়ে চারটি বিশেষ সহায়তা ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুশান ভাইজ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া ডিয়াজ-স্ট্রাক এবং এমআরডিআই’র নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।
এমআরডিআই-এর ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ৫৪৭ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। ১২টির বেশি সেশনে দেশি-বিদেশি ২০ জন আলোচক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
মন্তব্য (০)