মাদারীপুর প্রতিনিধি : নীল আকাশ, টলমল পদ্মার জল আর শীতল বাতাস এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য আনন্দে মাতলেন দেশবরেণ্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও মফস্বলের কলম সৈনিকরা। ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর ছেড়ে প্রকৃতির অকৃত্রিম ছোঁয়ায় পদ্মার চরাঞ্চলে কাটানো এই দিনটি যেন হয়ে উঠেছিল সংবাদকর্মীদের অনন্য এক মিলনমেলায়।
‘শিবচরের সাংবাদিক পরিবার’-এর আয়োজনে শনিবার (৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণিল ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও নৌবিহার-২০২৬’।
নীল আকাশের বুক চিরে হঠাৎ জমে ওঠা মেঘ, এরপরই নামে হালকা বৃষ্টি। ঠিক সেই মুহূর্তেই পদ্মাপাড় কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে একে একে আগমন ঘটে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক, সাংবাদিক এবং ঢাকার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । তাদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। দু'টি সুসজ্জিত ট্রলার যখন মাঝনদী অভিমুখে যাত্রা শুরু করে, তখন দিগন্তে আভিজাত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পদ্মা সেতু যেন অভিবাদন জানাচ্ছিল এই কাফেলাকে।
এই আনন্দযাত্রায় অংশ নেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম,ডিইউজে'র সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মো. আবুবকর।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনে ছিলেন, বর্তমানদিন পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদক মো. মতিউর রহমান, শিবচর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খানসহ শিবচরের সাংবাদিক পরিবার।
এছাড়া বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, মাদারীপুর ও শিবচরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এই উৎসবে অংশ নেন।
পদ্মার ঢেউ চিরে ট্রলারগুলো নোঙর করে শিবচরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরজানাজাত ইউনিয়নের ‘হীরা খার বাজার’ সংলগ্ন চরে।
সেখানে নদীর তীরে সামিয়ানা টানিয়ে তৈরি করা হয় এক টুকরো শান্তির নীড়। সাংবাদিকরা চরের দিগন্তজোড়া বালুচর আর নদীভাঙন কবলিত মানুষের জীবনযুদ্ধ অবলোকন করেন। খবরের পেছনের মানুষগুলো যখন নিজেরাই খবরের খোঁজে চরের ধুলোবালি মাখেন, তখন এক ভিন্ন আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুপুরে চরের উন্মুক্ত প্রান্তরে আয়োজিত হয় এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভা। সাংবাদিক নেতারা তাদের বক্তব্যে জানান, ব্যস্ত জীবনে এমন আয়োজন মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ শুধু বিনোদনের জন্য নয়; বরং দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা থেকে আগত গুণী সাংবাদিকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
চরের বুকে তৃপ্তিদায়ক ‘ভূরিভোজ’ শেষে পুনরায় যখন ট্রলারগুলো কাওড়াকান্দির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে, তখন শুরু হয় বিনোদনের দ্বিতীয় পর্ব। গান, আড্ডা আর স্মৃতিচারণে পদ্মার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। বিকেলে ফেরিঘাটে পৌঁছে হালকা নাস্তা শেষে যখন সবাই নিজ নিজ কর্মস্থলের দিকে পা বাড়াচ্ছিলেন, তখন সবার চোখেমুখেই ছিল একরাশ তৃপ্তি।
যান্ত্রিক শহরের টানে ফিরে গেলেও, এই চরাচরের স্মৃতি যেন সবার মনে চিরস্থায়ী আসন গেড়েছে। সুযোগ পেলে আবারও প্রকৃতির এই অবারিত দুয়ারে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেষ হয় দিনভর চলা এই আনন্দ আয়োজন।
মন্তব্য (০)