বিনোদন ডেস্ক : লাইক অ্যা ভার্জিন’ গানে খ্যাত পপ তারকা ম্যাডোনা বয়সকে যেন পাত্তাই দিচ্ছেন না। বয়স ৬৭ হলেও যৌবনের কাছে তিনি এখনও হার মানেননি। তার প্রেমিক আকিম মরিসের বয়স মাত্র ২৯ বছর, যা ম্যাডোনার বয়সের অর্ধেকেরও কম।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মরক্কোতে পারিবারিক ভ্রমণ শেষে ম্যাডোনা ও আকিম মরিস নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান। ব্যস্ত টার্মিনালের ভেতর দিয়ে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় তাদের। ম্যাডোনা পরেছিলেন কালো পাফার জ্যাকেট। হাতে ছিল ডলচে অ্যান্ড গাব্বানার বড় একটি টোট ব্যাগ। কিছুটা পেছনে থেকে অতিরিক্ত লাগেজ বহন করছিলেন মরিস।
দু’জনকেই বেশ আনন্দিত দেখা গেছে। তাদের অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছিল, সফরটি বেশ উপভোগ্য কেটেছে। এই ভ্রমণে তারা মরক্কোর সাহারা মরুভূমিতেও সময় কাটান। সেখানে ম্যাডোনার কয়েকজন সন্তানও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তারা হলেন রোকো (২৫), ডেভিড (২০), মার্সি (১৯) এবং যমজ স্টেলা ও এস্তেরে (১৩)। অনলাইন ডেইলি মেইল এ খবর জানিয়েছে।
ম্যাডোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরুভূমির নানা মুহূর্ত শেয়ার করেন। ঘোড়ায় চড়ে বালিয়াড়ি পাড়ি দেওয়ার ভিডিও ও মরুভূমির ক্যাম্পের দৃশ্য ছিল সেই পোস্টগুলোতে। তবে ছুটির আনন্দের মাঝেও তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের মানবাধিকারমূলক অবস্থান তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক দমনপীড়নের কারণে বিক্ষোভে উত্তাল। আন্দোলনকারীরা মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ শক্তি প্রয়োগ ও ইন্টারনেট বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির বিচার বিভাগ প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের জন্য ইরানের শাসকদের প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
‘ভোগ’ গানের তারকা ম্যাডোনা তার পোস্টে লেখেন, ‘ছুটির সময় মরক্কোয় কাটানো দিনগুলোর কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে পড়ছে ইরানের সেই মানুষগুলোর কথা, যারা প্রয়োজনীয় এক বিপ্লবের জন্য লড়াই করছে এবং নিজেদের বিশ্বাসের জন্য মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা কত কিছুই না স্বাভাবিক ধরে নিই। আমি নিজেও। সারা বিশ্ব ভ্রমণের স্বাধীনতা, যা খুশি পরার স্বাধীনতা, মরুভূমিতে ঘোড়ায় চড়ার স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার শাস্তি, নির্যাতন বা মৃত্যুর ভয় ছাড়াই। গান গাওয়ার, নাচার, নিজের আধ্যাত্মিক পথ বেছে নেয়ার স্বাধীনতা। এসব অন্য কারও চাপিয়ে দেয়া নয়। ইরানের নারীদের এই স্বাধীনতা নেই। আমি তাদের পাশে আছি।’
ম্যাডোনা আরও বলেন, ‘ইরানের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। আমি তাদের কষ্ট পুরোপুরি বুঝতে পারি এমন দাবি করতে পারি না, কিন্তু আমার চিন্তা ও প্রার্থনা ইরানের মানুষের সঙ্গে আছে। সময় এখনই। দৃঢ় থাকুন!’ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যাক- মুক্ত ইরান!’
এর আগেও একই সফর থেকে তরুণ প্রেমিক আকিম মরিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন ম্যাডোনা। এক ছবিতে তাকে কালো পাফার কোট ও পেইসলি স্কার্ফ পরে আকিমের পাশে পোজ দিতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিল খাকি রঙের ফেডোরা হ্যাট ও বড় কালো সানগ্লাস। আকিম পরেছিলেন কালো জিলেট ও বাদামি হুডি।
আরেকটি সূর্যাস্তের ছবিতে ম্যাডোনা বাদামি ফক্স-ফার কোট ও স্কার্ফ পরে ক্যাম্পফায়ারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সফরে তিনি ঘোড়ায় চড়ার পোশাকেও দেখা দেন। পরিবারটি উটের পিঠে চড়ার অভিজ্ঞতাও উপভোগ করে।
অন্যান্য ছবিতে ম্যাডোনাকে অল ব্ল্যাক পোশাকের সঙ্গে ফক্স-ফার কোট পরে সোনালি ভাস্কর্যের পাশে পোজ দিতে দেখা যায়। স্নেকপ্রিন্ট কাউবয় বুট ও বাদামি ফেডোরায় তার ওয়েস্টার্ন লুক নজর কাড়ে। আরেক ছবিতে দীর্ঘ কালো হুডযুক্ত ফার কোটে তাকে আবেদনময় ভঙ্গিতে দেখা যায়। পাশে মাটিতে বসে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছিলেন তার ছেলে রোকো, যিনি লাল-কালো গ্রাফিক টি-শার্ট পরেছিলেন।
ছুটির ছবিগুলো শেয়ার করে ম্যাডোনা ক্যাপশনে লেখেন, ‘মরক্কো! তোমাকে ছেড়ে যেতে মন চায় না! এমএ।’
মন্তব্য (০)