
ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্কঃ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে আবারও এক বাঙালির পদচিহ্ন আঁকা হতে চলেছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে প্রধান বিচারপতির আসনে বসতে দেখা যাবে ২০৩১ সালে। ইতোমধ্যেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সিনিয়রিটি তালিকা অনুযায়ী তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিচারকের দায়িত্ব নেবেন।
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা অবসরের বয়সসীমা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। জয়মাল্য বাগচীর জন্ম ১৯৫৯ সালে এবং তার অবসর ২ অক্টোবর ২০৩১। ফলে ২৫ মে ২০৩১ থেকে বর্তমান প্রধান বিচারপতি অবসরে গেলে জয়মাল্য বাগচী নতুন প্রধান বিচারপতি হবেন এবং প্রায় চার মাস দায়িত্ব পালন করবেন। মার্চ মাসে কলেজিয়ামের সুপারিশের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেন। এই নিয়োগ ভারতীয় গণমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কাউকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান হিসেবে দেখা যায়নি। শেষবার ২০১৩ সালে আলতামাস কবির প্রধান বিচারপতির আসনে বসেছিলেন। প্রায় আঠারো বছর পরে আবার এক বাঙালি সেই মর্যাদা পেতে চলেছেন। ভারতের মতো বিশাল গণতন্ত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদটির গুরুত্ব অপরিসীম। আদালতের রায় শুধু আইনি ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও বিস্তার করে। তাই এক বাঙালি এই পদে বসতে চলেছেন, এটাই বিশেষ মর্যাদার বিষয়। এই নিয়োগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো পৃথক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক দলগুলোও এ বিষয়ে নীরব থেকেছে। মূলত কলেজিয়াম সুপারিশ করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন দেওয়া ভারতীয় বিচারব্যবস্থার প্রচলিত নিয়ম। তবে সুপ্রিম কোর্টে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আবার প্রতিনিধিত্ব তৈরি হওয়া দেশটির আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য শুভ লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়মাল্য বাগচী কলকাতার আইনজীবী মহলে সবসময়ই ভারসাম্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিচারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক মামলাতেও নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখেছেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে রায় দিতে পিছপা হননি। ফলে তার এই পদোন্নতি ভারতের বিচারব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তার প্রধান বিচারপতির মেয়াদ খুব বেশি দীর্ঘ নয়, তবুও এই সময়টি ভারতের ইতিহাসে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কয়েক মাসের জন্য হলেও এক বাঙালি সুপ্রিম কোর্টের শীর্ষ আসনে বসছেন, এটি আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আইনজীবী মহল বলছে, ভারতের বিচারব্যবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টের অবদান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। বহু খ্যাতিমান আইনজীবী ও বিচারপতি এখান থেকে উঠে এসেছেন। তাই এই নিয়োগ শুধু একটি পদোন্নতি নয়, বরং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্টের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠারও দৃষ্টান্ত। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের একটিতে এক বাঙালির বসা কেবল ভারতের নয়, গোটা অঞ্চলের জন্য এক গর্বের খবর।
নিউজ ডেস্ক : ইসরাইলি সেনারা শুক্রবার থেকে গাজা সিটিতে ‘ভয়াবহ হামলা...
নিউজ ডেস্ক : গাজায় যুদ্ধ নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে আগামী মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠি...
নিউজ ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বেশকিছুদিন ধরে আন্দোল...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্...
নিউজ ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি...
মন্তব্য (০)