• সমগ্র বাংলা

আড়াইশত বছরের প্রথা মেনে কান্তজী বিগ্রহ নৌ বিহারে রাজবাড়ীতে

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ আড়াইশত বছর আগে শুরু রাজ শাসনামলের পরিবারিক রীতি প্রথা অনুসরন করে আজ শুক্রবার ঢেপা নদী পথে নৌকা বিহারে করে রাধা-কৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে। ঢাকঢোলের বাজনার তালে পূজা-অর্চনা প্রসাদ বিতরনের মধ্য দিয়ে ভক্ত অনুরাগি সাধু সন্যাসি পূণ্যার্থী পূজারিরা উৎসব মূখর পরিবেশে দেবতার প্রতিমাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন।  এসময় বহরের নিরাপত্তায় ছিল বিপুল সংখ্যক সেনা আনসার পুলিশ সদস্য।প্রায় সাড়ে ৫শত বছর আগে দিনাজপুরের শাসন ক্ষমতার সূচনা হয়েছিল হিন্দু রাজবংশের।  সেই বংশের রাজা প্রাণনাথ ১৭২২ সালে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী থেকে ২২ কিলোমিটার দুরে কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে নির্মাণ করেছিলেন রাধা-কৃষ্ণের পূজার জন্য টেরাকোটা শৈলির কান্তজিউ মন্দির। পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথ ১৭৫২ সালে নির্মাণ শেষ করেই সূচনা করেন রাধা-কৃষ্ণের কান্তজিউ বিগ্রহের ধর্মীয় পূজা অর্চনার। যুগল বিগ্রোহ ৯ মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং বাকী ৩ মাস দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে রাখার নিয়ম প্রচলন হয়েছিল। 

রাজ পরিবারের হাত ধরে আড়াইশত বছর ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী আজ শুক্রবার সকালে কান্তজীউ মন্দির হতে ঢেপা নদীপথে নৌ-বিহারে রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। পৌছায় রাত ৮ টার দিকে শহরের সাধুঘাট হয়ে আদি মন্দির রাজবাড়ীতে। এসময় ঘাটে ঘাটে ভক্তকূলেরা বিভিন্ন ফল, মূল দুধ কলাসহ অন্যান্য শাকসব্জী প্রতিমার চরনে অর্পন করে মনোবাসনার মানত পুরন করে থাকে।  তিন মাস অবস্হান শেষে জন্মাষ্টমীর একদিন আগে যুগল বিগ্রহ ধর্মীয় উৎসব-উদ্দীপনায় সড়ক পথে পালকীতে চড়িয়ে ৯ মাসের জন্য আবার ফিরিয়ে আনা হবে কান্তজী মন্দিরে। রাস পূর্ণিমার তিথিতে শুরু হয়ে থাকে মাস ব্যাপী রাস মেলা।

মন্তব্য (০)





  • company_logo