ছবিঃ সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় পেয়ারাতলার আমতলা নামক স্থানে বৈশাখী মেলার নামে চলছে জমজমাট এক জুয়ার আসর।
কে দিলো তাদের জুয়ার আসর বসানোর অনুমতি প্রশ্ন আসছে জনমনে। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ এখন এলাকার সচেতন মহলের মানুষ।
ফসলের মৌসুমে বৈশাখী মেলার নামে এই এলাকায় একটি সিন্ডিকেট প্রতি বছর তৎপর থাকে সাধারন মানুষের পকেটের টাকা লুটে নেওয়ার জন্য। এসময় কৃষক শ্রেনীর মানুষের হাতে টাকা পয়সা থাকে আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় সিন্ডিকেটের হোতারা।
জানা গেছে, মেলার নামে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি নেওয়া হয় প্রশাসনের কাছ থেকে। কিন্তু এখানে বসানো হয়েছে জমজমাট এক জুয়ার আসর। এঘটনা জানার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় বন্ধ করা হবে র্যাফেল ড্র নামক জুয়ার আসর।
সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি এই এলাকার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এধরনের জুয়া মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে।জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে নষ্ট হতে পারে গোটা পরিবার ও সমাজ। নারী থেকে শুরু করে অল্প বয়সী ও বয়স্করাও তাদের চমকপ্রদ অফারের আশায় সবাই কিনছে লটারী নামক জুয়ার টিকিট।
মহিলারাও উৎসাহী হয়ে ২০ টাকা করে ৫টি র্যাফেল ড্র এর টিকিট কিনছে ১০০ টাকায়। দিনদিন জাতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে ভাবা যায়। একেতো ৪২.৭ ডিগ্রী তাপমাত্রায় নাভিশ্বাস এই এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষ গুলো। চরম উত্তাপের কারনে এখন কাজকর্ম করতে পারছে না ঠিকমতো।
সবেমাত্র কৃষকরা তাদের উৎপাদিত উফশি ফসল ধান ও ভুট্টাসহ ফসল বিক্রি করে টাকা পায়সা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে। এমন সময় জুয়ার এই চমকপ্রদ অফারে আসক্ত হতে পারে সাধারন মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে র্যাফেল ড্র এর টিকিট কিনে অনেকে হয়েছেন নিঃস্ব। অনেকে এনজিও থেকে লোন করে এই লটারীর টিকিট কিনে কোন কিছু না পেয়ে জমাজমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তাই এহেন কর্মকান্ডের জন্য ধিক্কার জানাচ্ছে এলাকার সচেতন মহলের মানুষ।
একদিকে তীব্র তাপদাহে স্বস্তি নেই জনমনে। ছিন্নমূল মানুষের পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না। নাম বলতে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান এই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এধরনের আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। মেলার নামে এসমস্থ অপকর্মকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানিয়েছেন অত্র এলাকার সচেতন মহলের মানুষ।
মানুষ সুস্থ ধারার বিনোদন চায়। কিন্তু মেলার নামে এসব কি? আর বিনোদনের নামে মানুষের সর্বস্ব লুটে নিতে জুয়ারিদের অনুমতি দেয় কারা এগুলো ক্ষতিয়ে দেখার দায়িত্বই বা কাদের। শুধু প্রশ্ন রাখলাম আপানাদের কাছে। এগুলো শুধুই মানুষের ক্ষতি ছাড়া আর কিছু না। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এহেন জাঁকজমকপূর্ণ জুয়ার আসর যা সাধারন মানুষদেরও ভাবিয়ে তুলছে। সমাজে বির্তকের সৃষ্টি হচ্ছে এসব নিয়ে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন জুয়া বন্ধের জন্য।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা জানান শর্তসাপেক্ষে শুধু মেলার অনুমতি দেওয়া হয়। যদি শর্ত ভঙ্গ করে আইনের ব্যতয় হয় তাহলে মেলা বন্ধ ঘোষনা করা হবে।
তিনি জানান আমি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব হাসিনা মমতাজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মেলায় র্যাফেল ড্র এর জুয়ার আয়োজন করা হলে সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করা হবে জানান তিনি।
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানা...
নিউজ ডেস্কঃ মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্...
গাজীপুর (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্র...
দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মাদকের মামলায় ভ্রাম...
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়কে বাস পার্কিং নিয়ে তর্...

মন্তব্য (০)